দেশে
ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞরা। গতকাল
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড
ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) আয়োজিত এক কর্মশালায় এ
আহ্বান জানান তারা। ‘ওয়ে ফরোয়ার্ড টু ইনক্রিজ ক্যাশলেস
পেমেন্ট ফর এ স্মার্ট
বাংলাদেশ’ শীর্ষক
এ কর্মশালা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, ক্যাশলেস ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর, রিটেইলার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও চ্যানেলকে এ প্রণোদনার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রণোদনা না দেয়া হলে মার্চেন্ট ও গ্রাহকরা অনলাইন সিস্টেমে পেমেন্ট করতে উৎসাহিত হবেন না। নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থায় আসতে রাজি হবেন না গ্রাহকরা।
গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয় অংশীদারকে প্রণোদনা দিতে হবে উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, শুধু গ্রাহক কিংবা শুধু মার্চেন্টদের প্রণোদনা দিয়ে ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রসার করা যাবে না। মার্চেন্টদের বাদ দিয়ে শুধু গ্রাহকদের প্রণোদনা দিলে মার্চেন্টরা ক্যাশলেস সেবা অন্তর্ভুক্ত করতে নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে মার্চেন্টদের প্রণোদনা দিলে গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘দেশে ক্যাশলেস ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণে ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে, তাদের উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকগুলো সুপার অ্যাপস নিয়ে এসেছে। কিন্তু খোঁজ নিলে জানা যাবে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ৩০ শতাংশ কর্মকর্তাও এসব অ্যাপসের ব্যবহার জানেন না। অ্যাকাউন্ট খুললে ফরম, চেক বই, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দেয়া হয়। কিন্তু অ্যাপসের কথা গ্রাহকদের জানানো হয় না। গ্রাহকদের অ্যাপসের ব্যবহার শেখাবে কারা? এটা তো ব্যাংকেরই ব্যর্থতা। নিজেদের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে, জনগণ পর্যন্ত পৌঁছতে হবে। তাহলে আমাদের ক্যাশলেস পেমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’
জয়তুন বিজনেস সলিউশনের চেয়ারম্যান আরফান আলী বলেন, ‘ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করতে হলে লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহকের কাছ থেকে চার্জ নেয়া যাবে না। এটাকে শর্তমুক্ত, উন্মুক্ত ও ফ্রি করে দিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান ক্যাশলেস ব্যবস্থা পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ খাতে প্রণোদনা দেয়ার দায়িত্ব নিতে হবে, বিনিয়োগ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিনিয়োগ ছাড়া এ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী লেনদেন ব্যবস্থাপনায় দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় হয়। বাংলাদেশে এ খরচের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ অর্থের ২০-৩০ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে ব্যবস্থাপনায় এলে পরিবর্তন আসবে বলে আমার মনে হয়।’
বেসিসের পরিচালক ও মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘বেসিস থেকে একটি প্রস্তাব গিয়েছিল ৫ শতাংশ প্রণোদনার। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচকও ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি। বেসিস প্রস্তাব করেছিল ৫ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ যাবে গ্রাহকের কাছে, বাকি ২ শতাংশ যাবে মার্চেন্টের কাছে। এর একটা অংশ যদি বাস্তবায়ন করা যেত, তাহলে আমাদের জীবন অনেক সহজ হয়ে যেত। সরকার যেভাবে প্রণোদনা থেকে সরে আসছে, তাতে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা আমরা জানি না।’
এ সময় আরো বক্তব্য দেন বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক মো. মোতাসেম বিল্লাহ, পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ জিয়াউল হক, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।










