গত বছরের শেষভাগে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের জের ধরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। পণ্যটির বাড়তি দামের কারণে অস্থিরতা দেখা গেছে ভারতের বাজারেও। বাদ যায়নি মিয়ানমারও। প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো মিয়ানমারের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে আসায় দেশটিতে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খবর মিয়ানমার টাইমস।
দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মিয়ানমারের বাজারে প্রতি ১০০ ভিস (১৬৩ কেজির প্যাকেজ) পেঁয়াজ ১ লাখ ৮০ হাজার কিয়াটে (স্থানীয় মুদ্রা) বিক্রি হচ্ছে। বিদায়ী বছরের শেষের দিকেও দেশটিতে প্রতি ভিস পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ হাজার কিয়াট।
পেঁয়াজের এ বাড়তি দামের পেছনে উৎপাদন কমে আসাকে চিহ্নিত করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এবারের মৌসুমে দেশটিতে পেঁয়াজ উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এ কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম। তবে কৃষকরা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকলেও তারা খুব বেশি লাভবান হচ্ছেন না। লাভের অর্থ উঠছে ব্যবসায়ীদের ঘরে।
মিয়ানমারের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী ইউ হলা অং বলেন, প্রাকৃতিক কারণে এবারের মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়েছে। কৃষকরা ফলন বাড়ানোর জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। ব্যয় হয়েছে বেশি। এ কারণে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় বেশি পাওয়া গেলেও আর্থিক লাভের পরিমাণ কমে এসেছে।
এদিকে অনিয়ন-গার্লিক প্রডাকশন অ্যান্ড এক্সপোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন অব মিয়ানমারের প্রধান ইউ খেইন হ্যান বলেন, বছরের শেষ ভাগে টানা ছুটি থাকায় মিয়ানমারে পেঁয়াজের বেচাকেনায় চাঙ্গাভাব বজায় ছিল। একই সঙ্গে বাজারে আগের মৌসুমের পেঁয়াজের মজুদ একেবারে শেষ হয়ে এসেছে। মূলত বাড়তি চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কমে আসায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের মৌসুমের পেঁয়াজের মজুদ কমায় পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি আরো ঊর্ধ্বগামী হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বাজারের নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এসব পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারে এলে দাম কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।









