কভিডজনিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর খানিকটা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরেছে জাপানের জনজীবন। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, আগস্টে জাপানের পারিবারিক ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। প্রায় তিন বছর পর বিধিনিষেধমুক্ত হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়েছে পরিবারগুলো। তাই জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ সত্ত্বেও ভোক্তারা ব্যয় করতে উৎসাহী হচ্ছেন।
মাইনিচির খবর অনুসারে, আগস্টে জাপানি পরিবারগুলো গড়ে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৪ ইয়েন (২ হাজার ডলার) ব্যয় করেছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসে পারিবারিক ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যদিও এক বছর আগের তুলনায় দেশটিতে প্রকৃত মজুরি ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম মাসে প্রকৃত মজুরি নিম্নমুখী রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কত দিন পারিবারিক ব্যয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে তা অনিশ্চিত। বিষয়টি ব্যাংক অব জাপানের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মজুরি বৃদ্ধি না পাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জাপানে যা দেখা যায়নি। তাছাড়া আগস্টে তাদের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশে।
প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যখন মজুরিবিষয়ক আলোচনায় বসা হবে তখন তারা যেন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মীদের মজুরি ও বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার করে।
মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাংক অব জাপানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা মনে করে যে, ইয়েনের সাম্প্রতিক পতন থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য সুদের অতি নিম্ন হার নীতি বজায় রাখা প্রয়োজন।
জাপানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হোটেল, বিনোদন ও প্যাকেজ ট্যুর বাবদ ব্যয় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যয় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। বছরের মাঝামাঝিতে নভেল করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার সামলেছে জাপান। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ও ওষুধ বাবদ খরচ বেড়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশ।
কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে জাপানের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির তুলনায় এ গতি ধীর। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সরকারি প্যানেলে অংশ নেয়া বেসরকারি খাতের সদস্যরা বলেছেন, জাপানের উচিত ভোক্তাদের সমর্থন করতে পারে এমন মজুরি কাঠামো প্রবর্তন করা। পাশাপাশি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হওয়া।
এদিকে অক্টোবরের শেষ নাগাদ জাপান সরকার একটি নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ আনার পরিকল্পনা করছে। যেখানে পরিবারের ওপর মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।










