ভারতের অন্যতম তুলা উৎপাদন রাজ্য গুজরাটে এবার পোকার উপদ্রব বেড়েছে। ফলে এ মৌসুমে এ রাজ্যে তুলার উৎপাদন কমে যেতে পারে। তবে মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানাসহ অন্যান্য রাজ্যে এবার উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ভারতের তুলা উৎপাদন ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) হতে পারে বলে জানিয়েছে কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএআই)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ প্রাক্কলন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিজনেস লাইন ও বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ভারতে প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে তুলা উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়। চলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সিএআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মৌসুমে গুজরাট রাজ্যে ভারি বৃষ্টিপাত ও মথের উপদ্রবের কারণে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বলছে, আগের প্রাক্কলনের তুলনায় এ সময়ে উৎপাদন চার লাখ বেল কমে ৯৬ লাখ বেলে দাঁড়াতে পারে। গুজরাটের মতো উৎপাদন কমে যেতে পারে পাঞ্জাব ও রাজস্থানেও।

সিএআইয়ের সভাপতি অতুল গনাত্রা বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত ও পোকার উপদ্রবের কারণে গুজরাটে এবার তুলা আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এ রাজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ কৃষক গাছ উপড়ে অন্যান্য লাভজনক ফসল চাষ করেছেন।

তবে গুজরাট রাজ্যে তুলার উৎপাদন কমে গেলেও উৎপাদন প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানায়। সিএআই মনে করছে, রাজ্য দুটিতে এ মৌসুমে তুলার উৎপাদন আগের প্রাক্কলনের তুলনায় তিন লাখ বেল করে বাড়তে পারে। সেই হিসাবে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজ্য দুটির উৎপাদন যথাক্রমে ৮৩ লাখ ও ৫১ লাখ বেলের মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া কর্ণাটকে উৎপাদন ৫০ হাজার বেল বৃদ্ধি পেতে পারে।

সম্প্রতি সিএআইয়ের ফসলবিষয়ক কমিটির সদস্যরা চলতি মৌসুমের উৎপাদন ও বাজার নিয়ে আলোচনায় বসেন।

সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের বন্দরগুলো দিয়ে পাঁচ লাখ বেল তুলা আমদানি হয়েছে। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে দেশটি ২৫ লাখ বেল তুলা আমদানি করতে পারে। সেই হিসাবে বাকি ২০ লাখ বেল তুলা চলতি মাস থেকে আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমদানি করা হতে পারে।

আমদানির পাশাপাশি রফতানির তথ্যও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ লাখ বেল তুলা রফতানি হয়েছে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে ভারত থেকে ৪২ লাখ বেল তুলা রফতানির কথা রয়েছে।

আর এ মৌসুমে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে ৩ কোটি ৩১ লাখ বেল তুলার ব্যবহার হতে পারে। রফতানির পর মৌসুম শেষে দেশটির মজুদ দাঁড়াতে পারে ৩০ লাখ বেলে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার চাহিদা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। যার ফলে চাপের মধ্যে রয়েছে তুলার বাজার। এ অবস্থায় ভারতীয় তুলা আন্তর্জাতিক বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

চলতি মাসের ২ থেকে ৫ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইসিএসি) ৭৮তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অধিবেশন থেকে জানানো হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে<