ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের বাতাং জেলায় উৎপাদিত চা এখন রফতানি হচ্ছে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে। স্থানীয় চা চাষীদের যারা ওই জেলার সেকার লঙ্গিত স্মল বিজনেস গ্রুপের সদস্য হয়েছেন তাদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে রফতানিযোগ্য চা উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান কাসমুরি। খবর আন্টারা।

কাসমুরি জানান, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা ও নেদারল্যান্ডসের বাজারে প্রতি মাসে প্রায় ৭০০ কেজি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির চা রফতানি করার মতো সক্ষমতা তাদের তৈরি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগে এখানকার চাষীরা প্রচলিত পদ্ধতিতে চা পাতা প্রক্রিয়া করতেন। ফলে চায়ের মান নষ্ট হয়ে যেত। এখন প্রযুক্তির ব্যবহার করে তারাই এক্সপোর্ট কোয়ালিটি চা উৎপাদন করছেন।

জানা গেছে, বাতাং চা চাষীদের প্রক্রিয়াজাত চায়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে গ্রিন টি, উলং টি, পারওয়াচেং হারবাল টি, লেমনগ্রাস টি ও হোয়াইট টি অন্যতম।

এর মধ্যে বিশেষ অর্গানিক স্বাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান চা হলো হোয়াইট টি। বিশেষ ধরনের এ চা প্রস্তুতের জন্য ভোরে সূর্যের আলো ফোটার আগে পাতার কুঁড়ি সংগ্রহ করতে হয়। এ ধরনের চা মানবশরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দেয়, ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে এবং ডায়াবেটিস উপশমে উপকারী বলে ধারণা করা হয়।

বাতাংয়ে উৎপাদিত সাধারণ চায়ের গড় দাম প্রতি কেজি আড়াই ডলার। সেখানে হোয়াইট টির দাম কেজিপ্রতি ১৪৩ ডলার।

তবে বাতাংয়ের চা রফতানি এখনো তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে চা চাষীদের কাঙ্ক্ষিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকছেই। স্থানীয় একটি ব্যবসায়িক এজেন্সির প্রধান সুবিয়ান্তো বলেন, সেকার লঙ্গিত স্মল বিজনেস গ্রুপ যাতে স্বাধীনভাবে রফতানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার চা চাষীদের প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে রফতানিকারকদের এখানে আমন্ত্রণ জানানোর চিন্তাভাবনা করছে। তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতা ছাড়াই কীভাবে সরাসরি তাদের কাছে চা রফতানি করতে পারে, সে বিষয়ে তারা চাষীদের শেখাবেন।