চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মুনাফার অংকে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টেসলা। এ সময় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার চাহিদা পুনরুদ্ধারে মূল্যছাড় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে অতিব্যয়ের প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির সামগ্রিক আয়ে। খবর রয়টার্স ও সিএনবিসি।

টেসলা জানিয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় আয় ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার হয়েছে। তবে ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস ছিল এ সময়ে কোম্পানিটি আয় করবে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে অটোমোটিভ আয় ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার হয়েছে, ২০২৩ সালের একই সময়ে আয় করেছিল ২ হাজার ১২৭ কোটি ডলার।

জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় টেসলার মুনাফা কমেছে ৪৫ শতাংশ। এ সময় টেসলা মুনাফা করে ১৫০ কোটি ডলার, ২০২৩ সালের একই সময়ে মুনাফা করেছিল ২৭০ কোটি ডলার।

অবশ্য ভবিষ্যতে মুনাফার পরিমাণ বাড়বে এমনটাই আশা করছে টেসলা। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে সাশ্রয়ী মডেলের গাড়িসহ নতুন কিছু গাড়ি বাজারে আনবে। তবে এ মডেলগুলোর দাম আগে যতটা বলা হয়েছিল ততটা কম হবে না। এ খবর প্রকাশের পর টেসলার শেয়ারদর ৮ শতাংশ কমে গেছে।

এ বিষয়ে ইনভেস্টিং ডটকমের সিনিয়র বিশ্লেষক থমাস মন্টেইরো বলেন, ‘কোম্পানির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে টেসলার বিনিয়োগকারীরা এবার ভালো ফল দেখতে চাইছে। রোবোট্যাক্সি বা হিউম্যানেয়ড রোবটের ব্যাপারে তারা দ্রুত কিছু দেখতে চায়।’

টেসলার জন্য চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ছিল বিশৃঙ্খলায় ভরা। প্রতিষ্ঠানটির সিইও ইলন মাস্ক সস্তায় ইভি উৎপাদন স্থগিত করে কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেলগুলোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি উৎপাদনের ঘোষণা দিলে টেসলার শেয়ারদর বাড়তে থাকে।

এদিকে ভিজিবল আলফার ২০ জন বিশ্লেষকের তথ্যানুযায়ী, রেগুলেটরি ক্রেডিট বাদ দিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে টেসলা মোটরসের গ্রস মার্জিন ছিল ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যা বিশ্লেষকদের ১৬ দশমিক ২৯ শতাংশের পূর্বাভাসের তুলনায় কম।

এজে বেলের বিনিয়োগ বিশ্লেষক ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেছেন, টেসলা টানা চারটি প্রান্তিকে আয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের উদ্দেশে ইলন মাস্ক জানান, নতুন প্রতিযোগীরা তাদের ইভিগুলোর দাম অনেক কমিয়ে দিয়েছে, যা টেসলার জন্য পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন করে তুলেছে।

এদিকে টেসলার গাড়ি সরবরাহ পরপর দুটি প্রান্তিকে কমেছে। একদিকে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, অন্যদিকে সস্তা মডেলের গাড়ি খুব বেশি না থাকায় টেসলার চাহিদা কমেছে। চীনে তৈরি টেসলার ইভি ইউরোপ ও অন্যান্য স্থানেও রফতানি করা হয়। গত বছরের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর রফতানিও কমেছে। অন্যদিকে বিওয়াইডি ও অন্যান্য চীনা অটোমেকারদের বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।