চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক করপোরেট খাতের আয় সূচকে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। চীনের অর্থনৈতিক মন্থরতা ক্ষত পুষিয়ে উঠতে পারেনি মার্কিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক সূচকে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
বাণিজ্য বিশ্লেষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কুইক-ফ্যাক্টসেট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ইউরোপের প্রায় ১১ হাজার কোম্পানি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে। চলতি বছরে কোম্পানিগুলোর নিট মুনাফা সার্বিকভাবে ৩ শতাংশ কমে ৯৫ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে এ ব্যবসাগুলোর হিস্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোয় গড়ে মুনাফা বেড়েছে ১০ শতাংশ, এক্ষেত্রে দেশটিতে অবস্থিত প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ও ওয়ারেন বাফেটের বার্কশায়ার হ্যাথওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাপানের ক্ষেত্রে পুনরুদ্ধার ঘটেছে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদন শিল্পের, যা ১০ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে দায়ী। বৈশ্বিকভাবে ১৬টি শিল্পের মধ্যে আটটিতেই মুনাফা বেড়েছে। অর্থনীতির ৮০ শতাংশই পুনরুদ্ধার ঘটেছে বিশেষ করে জেপি মরগ্যান চেজ ও এইচএসবিসি হোল্ডিংসের মতো প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে।
গাড়ি উৎপাদন শিল্পের সম্প্রসারণ ছিল এ সময়ের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। বছরের প্রথম প্রান্তিকে টয়োটা মোটর ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৯০ কোটি ডলার নিট মুনাফার তথ্য প্রকাশ করে। সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহের প্রতিবন্ধকতা সরে যাওয়ায় সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য দেয়া পূর্বাভাসে নিজেদের মুনাফা বৃদ্ধির কথা প্রকাশ করেছে আরেক প্রতিষ্ঠান হুন্দাই।
ধাতব পদার্থ ও জ্বালানি খাতে মুনাফার পতন ঘটেছে ৪০ শতাংশ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রধান জ্বালানি তেল প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা সংকোচনের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে চীনের পুনরুদ্ধার গতিতে মন্থরতা ও জ্বালানি তেলের মূল্য কমে যাওয়ার মতো কারণ। কেমিক্যাল শিল্প প্রতিষ্ঠানে মুনাফা ৬০ শতাংশের মতো কমেছে, যা ইউরোপ ও চীনের বাজারে অবনমনের বড় প্রমাণ। বিএএসএফের চেয়ারম্যান মার্টিন ব্রুডারমুলার দাবি করেছেন, শিল্পের সব প্রধান গ্রাহকের কাছ থেকেই আমরা চাহিদা কমে যাওয়ার প্রমাণ পাচ্ছি। কেবল বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারের চিত্র বিপরীত। চীনের মন্থরতায় পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের সংকোচন প্রভাব ফেলেছে এশিয়ার অন্য দেশগুলোয়।
ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি উৎপাদন শিল্পের খাতে মুনাফার পতন ঘটেছে ৩০ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের নিট মুনাফা কমেছে প্রায় অর্ধেক। এক্ষেত্রে স্মার্টফোনের চাহিদা কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আইডিসি জাপান পূর্বাভাস দিয়েছে, মোবাইল ফোনের বৈশ্বিক রফতানি চলতি বছরে ১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ৩০ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, মেটা, অ্যামাজন ও টেসলার মতো অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মুনাফা বেড়েছে। ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর প্রথমবারের মতো ছয়টি প্রতিষ্ঠানই মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। অ্যাপলের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা লুকা ম্যাস্ট্রি বলেছেন, ‘ব্যয় সংকোচন করতে গিয়ে আমরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে মুনাফা বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিতে ঝুঁকে পড়ছে। মাইক্রোসফটও নতুন মুনাফার মডেল তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে অ্যাপল, যেন আইফোনে বাণিজ্যিক ও পরিষেবা কার্যক্রম বাড়ে। অ্যালফাবেটের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা রুথ পোরাট বলেছেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যমাত্রায় গাঠনিক পরিবর্তন এনেছি। চলতি বছরের প্রথমার্থে এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেয়া হয়েছে, যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলতে থাকবে।’










