নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুরনো কর্মীদের পদত্যাগের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। শ্রমবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি আগামী মাসে সুদহারবিষয়ক ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি।

মার্কিন শ্রম বিভাগের করা জব ওপেনিংস অ্যান্ড লেবার টার্নওভার স্ট্যাটিস্টিকস (জেওএলটিএস) প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জুলাইয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল গত আড়াই বছরে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে পুরনো কর্মীদের কাছে ছেড়ে দেয়ার পরিমাণ কমে ২০২১ সালের গোড়ার দিকের পর্যায়ে এসেছে, যা কর্মসংস্থান বাজারে আস্থা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কনফারেন্স বোর্ডের করা আরো একটি জরিপে আগস্টে কর্মসংস্থান বাজারের গতি মন্থর হতে দেখা যায়।

এ অবস্থায় শ্রমবাজারের পরিস্থিতি আগামীতে আরো কঠোর হতে চলেছে। জুলাইয়ে প্রতিজন বেকার ব্যক্তির বিপরীতে ১ দশমিক ৫১ কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল, যা জুনে বেড়ে ১ দশমিক ৫৪ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনুপাতটি এখন শুধু অত্যধিক মূল্যস্ফীতির কারণে হয়েছে, তা বলা যাচ্ছে না।

জুলাইয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার কমে ৮৮ লাখ ২৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২১ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

পেশাদার ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতে ১ লাখ ৯৮ হাজার সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান কমতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তার ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে, যেখানে শিক্ষা খাত বাদে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কর্মসংস্থান কমেছে ৬৭ হাজার। সার্বিক কর্মসংস্থানের হারও কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে, যা গত জুনে ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।