ইউরোপে রোবোট্যাক্সি পরিষেবা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে যাচ্ছে চীনের প্রযুক্তি কোম্পানি বাইদু ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েমো। চলতি মাসে সুইজারল্যান্ডে অ্যাপোলো গো রোবোট্যাক্সির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করবে বাইদু। আগামী বছর যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতেও এ পরীক্ষা চালানো হবে। এবারই প্রথম ইউরোপের সড়কে অ্যাপোলো গো গাড়ি চলতে যাচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

সুইজারল্যান্ডে পরীক্ষাটি পরিচালিত হবে দেশটির পরিবহন সংস্থা পোস্টবাসের সহযোগিতায়। শুরুতে গাড়িগুলোয় একজন নিরাপত্তাকর্মী চালকের আসনে থাকবেন। যাত্রী না নিয়ে মানচিত্র তৈরির জন্য গাড়িগুলো সড়কে চলবে।

বাইদু আশা করছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য গাড়ি চালু করা যাবে। তখনো নিরাপত্তাকর্মী চালকের আসনে থাকবে। একই বছরের শেষ ভাগে শুরু হবে চালকবিহীন পরীক্ষা। পুরো পরিষেবা চালু করার লক্ষ্য রয়েছে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে।

রাইড শেয়ারিং সেবা প্রতিষ্ঠান লিফটের সঙ্গে আগস্টে একটি চুক্তি করেছে বাইদু। ওই চুক্তির আওতায় আগামী বছর জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে স্বচালিত গাড়ি সরবরাহ করবে বাইদু। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইউরোপে রোবোট্যাক্সির বহর কয়েক হাজারে পৌঁছতে পারে।

বাইদু অ্যাপোলোর ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝাং লিয়াং বলেন, ‘আমরা যুক্তরাজ্য ও জার্মানির স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধ মেনে চলা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বাইদুর ঘোষণার কয়েক মাস পর ওয়েমোও জানিয়েছে, আগামী বছর লন্ডনে ছোট একটি বহর নিয়ে তারা রোবোট্যাক্সি পরীক্ষা শুরু করবে। কোম্পানিটির মুখপাত্র বলেন, ‘সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে আমরা আগামী বছর প্রথম যাত্রী নেয়ার পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যতে শহরে আরো পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য আছে।’

এতে লন্ডন হয়ে উঠছে প্রথম শহর, যেখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রোবোট্যাক্সি চালু করবে। স্থানীয় প্রতিযোগী ওয়েভও উবারের সহযোগিতায় আগামী বসন্তে পাইলট প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।

ইউরোপে রোবোট্যাক্সির বিস্তার এখনো ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গএনইএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপজুড়ে রোবোট্যাক্সির সংখ্যা ১৭ হাজারে পৌঁছতে পারে। এর বড় অংশ থাকবে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে। গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের তথ্য বলছে, ইউরোপের এ বাজার চলতি দশকের শেষ নাগাদ পৌঁছতে পারে ৮৬০ কোটি ডলারে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের সরু রাস্তা, জটিল শহর বিন্যাস ও যুক্তরাজ্যের ডান-হাত চালনা পদ্ধতি এসব প্রযুক্তির সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ব্লুমবার্গএনইএফের ইন্টেলিজেন্ট মোবিলিটি বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু গ্রান্ট বলেন, ‘এসব চ্যালেঞ্জ থাকলেও এগুলো অতিক্রম করা অসম্ভব নয়।’

বাইদুর ঝাং লিয়াং জানান, হংকংয়ের মতো জটিল পরিবেশে ডান হাত চালনা পদ্ধতি শহরে চালানোর অভিজ্ঞতা তাদের ইউরোপে প্রবেশে সহায়তা করবে। ওয়েমোও বলছে, নতুন পরিবেশেও তাদের প্রযুক্তি সহজেই মানিয়ে নিতে পারবে।