গত নভেম্বরে দেশের পুঁজিবাজারে সার্বিকভাবে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সময়ে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৮০ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত নভেম্বর শেষে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ পয়েন্টে। এর আগের মাসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ১২২ পয়েন্টে। এক মাসের ব্যবধানে ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ২ দশমিক ৮০ পয়েন্ট। তাছাড়া নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ কমেছে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত নভেম্বরে পুঁজিবাজারে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৪৪২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এর আগে অক্টোবরে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা।
নভেম্বরজুড়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ২৯৭টিরই দর কমেছে। এর বিপরীতে বেড়েছে ৮৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২টির বাজারদর।
গত মাসে পুঁজিবাজারে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৮ দশমিক ১ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা শেয়ারের মধ্যে ন্যাশনাল টির ১৬৮ শতাংশ, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের ৪৫, রিংশাইনের ৩১, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের ২৭ ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ২৩ শতাংশ দর বেড়েছে।
নভেম্বরে শেয়ারদর কমার তালিকায় শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৬ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ২৯, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের ২৮, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ২৩ ও এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে ২২ শতাংশ।
গত মাসে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের ৩৩৮ কোটি টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ৩২৮ কোটি, ওরিয়ন ইনফিউশনের ২৭৮ কোটি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের ২৪৫ কোটি ও মনোস্পুল বাংলাদেশের ২১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শরিয়াহ খাতের পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার পাশাপাশি দুর্বল নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর প্রভাবে গত মাসে পুঁজিবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। বিশেষ করে যে নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার মধ্যে আটটিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে গেছে। বরং অনেকেই তাদের পোর্টফোলিওতে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে দিতে চাইছেন।
অন্যদিকে সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা কার্যকর করা হয়েছে। এ বিধিমালায় বেশকিছু কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে ফান্ডগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। তাছাড়া বর্তমানে পুঁজিবাজার মন্দার কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক ফলাফলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে খাতটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমেছে। যার প্রভাব পড়েছে খাত দুটির শেয়ার ও ইউনিটের ওপর।










