নিউজিল্যান্ড ঘিরে আগ্রহ হারাচ্ছে বিদেশের অতি ধনী বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে পুরনো নিয়ম বদলে নতুন বিনিয়োগ ভিসা পদ্ধতি চালুর পর দেশটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকে। ছয় মাস আগে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন ভিসা পদ্ধতি চালুর পর মাত্র ১৪টি আবেদন জমা পড়েছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
২০২১ সালে দেশটির পুরনো ভিসা পদ্ধতির আওতায় জমা পড়েছিল প্রায় ৪৯২টি আবেদনপত্র। নতুন এ ভিসা পদ্ধতিতে কিছু নিয়মগত কঠোরতা রয়েছে। যেমন বড় অংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ি আরোপ ও আবাসনখাতে বিনিয়োগকে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই দেশটি ঘিরে আগ্রহ হারিয়েছেন অনেকে।
কভিড-১৯ মহামারীর সময় ধনী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ভিসা কর্মসূচি গতি পেলেও পরবর্তী সময়ে নানা সমস্যার কারণে অনেক দেশই তা বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও পর্তুগাল তাদের ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে দেশগুলোর আবাসন খাতের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছিল জালিয়াতির মতো উদ্বেগও।
বিভিন্ন দেশ যখন বিনিয়োগ ভিসা ঘিরে এ ধরনের দ্বিধান্বিত পরিস্থিতির সম্মুখীন, তখন নিউজিল্যান্ড সরকারও তার বিনিয়োগ ভিসাসংক্রান্ত নিয়মগুলোয় পরিবর্তন আনে। যদিও সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী, কিন্তু তাদের ভিসা প্রদানে কিছুটা ঝুঁকিও বিদ্যমান। কেননা অন্যান্য দেশের মতো নিউজিল্যান্ডেও আবাসন খাতে অস্থিরতা দেখা যায় ও স্থানীয়রা উচ্চ আবাসন খরচের সম্মুখীন হয়।
তাছাড়া ২০১১ সালে প্রযুক্তি খাতের ধনী ব্যবসায়ী পিটার থিয়েলকে নাগরিকত্ব দেয় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু নাগরিকত্ব প্রাপ্তির আগে পাঁচ বছরে তিনি দেশটিতে মাত্র ১২ দিন অবস্থান করেন। এ ঘটনা প্রকাশের পর জনসাধারণ অসন্তোষ প্রকাশ করে। এরপর নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিবিদরা খানিকটা সতর্ক হয়ে ওঠেন।
নতুন ভিসা পদ্ধতিতে প্রথম ১০ জন বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত বিনিয়োগ তহবিল নির্ধারণ হয়েছে ১১ কোটি ১০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার বা ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে গত এক দশকে পুরনো ভিসা পদ্ধতির আওতায় দেশটি প্রতি বছর গড়ে ১০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার আয় করে।
অকল্যান্ড ল ফার্মের আইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্কাস বেভারিজ বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বিব্রতকর। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে আমি চরম অবহেলাপূর্ণ কাজ হিসেবে মনে করি। বিশেষ করে বিষয়টি যখন অর্থনীতির জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নতুন ভিসা কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন নন। তারা বরং যুক্তি দিচ্ছেন, বিনিয়োগকারী ও তাদের বিনিয়োগবিষয়ক পরামর্শকদের নতুন ভিসা পদ্ধতি সম্পর্কে বুঝে উঠতে খানিকটা সময় দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে আবেদনকারীর সংখ্যা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশাবাদী। এদিকে নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এ কর্মসূচিটি ভালোভাবে কাজ করছে কিনা, তা ২০২৩ সাল জুড়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।










