টানা এক দশক গোলমরিচের বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়তির দিকে ছিল। গত বছর আকস্মিক পণ্যটির উৎপাদন প্রবৃদ্ধি কমেছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট কভিড-১৯ মহামারীর কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিজনেস লাইন।

২০১০ সালে গোলমরিচের বৈশ্বিক উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৮ টন, যা গত ১০ বছরে ৭২ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টনে পৌঁছেছে। গত বছর আকস্মিক পণ্যটির উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায়। অর্থাৎ ২০২০ সালে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন ৪ হাজার ৭৪৮ টনে দাঁড়ায়, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র ১ শতাংশ বেশি।

বৈশ্বিক গোলমরিচ উৎপাদনে ভিয়েতনামের অবদান ছিল মোট উৎপাদনের ৪৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮০ হাজার টন মরিচ উৎপাদনের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটির এ অগ্রগতির পেছনে নতুন আবাদি জমি সৃষ্টির কারণকেই উল্লেখ করেছেন ওয়ার্ল্ডওয়াইড পিপার গ্রুপের সহকারী পরিচালক হোয়াং থি লিয়েন।

ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর স্পাইসেস পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামে ‘ওয়ার্ল্ড ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড কমার্স সিচুয়েশন: ব্ল্যাক পিপার’ শীর্ষক বক্তৃতায় এমন তথ্য দিয়েছিলেন লিয়েন।

তিনি বলেন, ব্রাজিলের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ খুব সম্ভবত এসপিরিটো সান্তোসের বাগানগুলোতে (জমি) উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়া।

২০১০-১৮ জুড়ে গোলমরিচ উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এর উৎপাদনশীলতা ওঠানামা করেছিল। তবে এটি ২০১১ ও ২০১২ সালে ক্রমবৃদ্ধির দিক থেকে রেকর্ড করেছে। যদিও পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে আবার কমেছিল।

তা সত্ত্বেও ২০১৭ ও ২০১৮ সালে উৎপাদনশীলতা আরো একবার বাড়ে বলে লিয়েন জানান। এ বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ২০ ও ১৯ শতাংশ।

১১ বছরের ইতিহাসে ২০১২ সালে হেক্টরপ্রতি ৩ হাজার ৭৪০ শতাংশ উৎপাদন করে সেরা উৎপাদনশীল দেশের রেকর্ড অর্জন করে দূরপ্রাচ্যের দেশ কম্বোডিয়া।

আমদানির পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে লিয়েন বলেন, ২০১৪-২০ পর্যন্ত বৈশ্বিক আমদানি বাজারের শেয়ার ভিয়েতনাম, ভারত ও চীনের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এর মধ্যে চীন ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯৯৭ টন ও ভিয়েতনাম ৩৯ হাজার ৮৪৬ টন আমদানি করেছিল। ২০২০ সালে ভারত আমদানি করেছে ২৪ হাজার ৮০৫ টন।

২০২০-এর জুলাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আমদানি মার্কেটে চীনের অংশ ছিল ১৬ শতাংশ এবং আমেরিকার পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক হয়ে ওঠে দেশটি। বিশ্ববাজারে গোলমরিচ আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার ছিল ২৮ শতাংশ।

গোলমরিচের আটটি ভোক্তা দেশের মধ্যে ২০২০ সালের আমদানি রেকর্ডে পৌঁছেছে, যার পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫০৩ টন।