২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মজুদ (গম এবং দানাদার শস্য) কমার পূর্বাভাস মিলেছে। এ নিয়ে টানা ছয় বছরের মতো মজুদ কমতে চলেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।

আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বিপণন মৌসুম শেষে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক মজুদ দাঁড়াবে ৫৮ কোটি ৪০ লাখ টনে। গত বছরের তুলনায় মোট মজুদ ৩ শতাংশ কমবে। যদিও এ সময়ে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহারও ৩০ লাখ টন কমবে বলে জানিয়েছে আইজিসি। মোট ব্যবহার দাঁড়াবে ২২৭ কোটি ১০ লাখ টনে।

আইজিসি বলছে, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে এ বছর খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টন কমবে। মূলত ভুট্টা উৎপাদনে নিম্নমুখিতা বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ বছর ভুট্টার মোট উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ কোটি টন কমবে।

আইজিসি জানায়, তুলনামূলক শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে এ বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় ভুট্টার আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে বছর শেষে শস্যটির উৎপাদন তলানিতে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়ার একের পর এক সামরিক আগ্রাসনের কারণে ইউক্রেনের ভুট্টা উৎপাদনেও ধস নেমেছে।

এদিকে ভুট্টা কমলেও অপরিবর্তিত থাকতে পারে গমের বৈশ্বিক উৎপাদন।  গত মাসের পূর্বাভাসে আইজিসি ৭৯ কোটি ২০ লাখ টন গম উৎপাদনের কথা জানিয়েছিল। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন এক কোটি টন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইজিসি আরো জানায়, চলতি মৌসুমে গম এবং দানাদার খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্য কমে ৪০ কোটি ৮০ লাখ টনে নামবে। ২০১৯-২০ বিপণন মৌসুমের পর এটিই সর্বনিম্ন। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়া ও ভারতের রফতানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে শস্যটির আমদানি তলানিতে নেমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে ভুট্টার বাণিজ্য, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ভুট্টা ও চীনে গম এবং সরঘামের (এক ধরনের শস্য) বাণিজ্য লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মৌসুমে সয়াবিনের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াবে ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে সয়াবিনের বৈশ্বিক মজুদের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ কোটি ৪০ লাখ টনে। গত মাসের তুলনায় আইজিসির শস্য এবং তেলবীজ মূল্যসূচকে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবে তা গত বছরের তুলনায় এখনো ১১ শতাংশ বেশি।