ভারতের পরিশোধকরা পাম অয়েল ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন। বিপরীতে বাড়ানো হচ্ছে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল। মূলত পাম অয়েলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায় পণ্যটির আমদানি কমাচ্ছে শীর্ষ ভোক্তা দেশটি। শিল্পসংশ্লিষ্টরা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নেতৃস্থানীয় পাম অয়েল আমদানিকারক দেশ ভারত ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়ায় পাম অয়েলের বাজারদর পড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে গত মাসের রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে ১০ শতাংশ কমেছে পণ্যটির দাম। এদিকে ভারত আমদানি বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।

বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান জি জি প্যাটেল অ্যান্ড নিখিল রিসার্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোভিন্দভাই প্যাটেল বলেন, ভারতের পরিশোধকরা সাধারণত পাম অয়েল কিনতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু বর্তমানে দামের ব্যাপক তারতম্যের কারণে তারা সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলে স্থানান্তর হচ্ছেন।

সাধারণত ভারত প্রতি বছর ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। এটি বার্ষিক ভোজ্যতেল আমদানির দুই-তৃতীয়াংশ। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের পর থেকে আমদানিতে লাগাম টেনে ধরা হয়েছে। ওই মাসে ভারত ১২ লাখ ৬০ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করে। এর পর থেকেই সয়াবিন ও পাম অয়েলের বাজারদরে ব্যবধান বাড়তে থাকে।

শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেই পাম অয়েল ক্রয় করে ভারত। ভোজ্যতেল ব্রোকার সানভিন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী সন্দীপ বাজোরিয়া বলেন, নভেম্বরে ভারতের পাম অয়েল আমদানি কমে ৫ লাখ ৮৫ হাজার টনে নেমেছে। অক্টোবরে দেশটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার টন আমদানি করেছিল। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়। নভেম্বরে সয়াবিন তেল আমদানি বেড়ে চার লাখ টনে পৌঁছেছে। অক্টোবরে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার টন। এছাড়া সূর্যমুখী তেল ক্রয় করা হয় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। নভেম্বরে পণ্যটির আমদানি ১ লাখ ১৭ হাজার টন থেকে বেড়ে দুই লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

প্যাটেল বলেন, ডিসেম্বরেও পাম অয়েল আমদানি ছয় লাখ টনের নিচে অবস্থান করবে। বিপরীতে ভারতের পরিশোধকরা চার লাখ টনেরও বেশি সয়াবিন তেল আমদানিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন তিনি। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পাম অয়েলের বাজার হিস্যা আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীত মৌসুমে পণ্যটির আমদানি তুলনামূলক নিম্নমুখীই থাকবে।