বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে এসব যানবাহনের ব্যাটারি তৈরির অন্যতম প্রধান রাসায়নিক দ্রব্য কোবাল্টের চাহিদা। কিন্তু আগামী বছরে রাসায়নিক দ্রব্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি বজায় থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান আনতাইকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দামে তেজিভাব বজায় থাকতে পারে। খবর রয়টার্স ও মাইনিং ডটকম।

আনতাইকের গবেষণাপত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরে কোবাল্টের বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি থাকবে সীমিত। চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে মোট ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টন কোবাল্ট উত্তোলন হতে পারে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। অথচ এবার পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি আরো কমে রাসায়নিক দ্রব্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়তে পারে পাঁচ হাজার টন।

এদিকে উত্তোলন হ্রাস ও চাহিদা বৃদ্ধির জেরে সরবরাহ সংকটে চড়া হতে পারে কোবাল্টের আন্তর্জাতিক বাজার। প্রতিষ্ঠানটির নিকেল বিশ্লেষক জয় কোং জানান, আগামী বছরে প্রতি পাউন্ড কোবাল্টে দাম গড়ে ১৮ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে। এছাড়া টনপ্রতি পণ্যটির দাম দাঁড়াতে পারে গড়ে ৪০ হাজার ডলার। চলতি বছরে প্রতি পাউন্ড কোবাল্ট গড়ে ১৬ ডলার থেকে ১৬ ডলার ৫০ সেন্টের মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে।

চলতি বছর কোবাল্টের বৈশ্বিক ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। আগামী বছরও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

জয় কোং বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ১ কোটি বৈদ্যুতিক যানবাহন তৈরি হবে। এতে কোবাল্টের চাহিদা বাড়বে, যা পণ্যটির দামে বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ২০২৫ সাল নাগাদ এ খাতে কোবাল্টের ব্যবহার ৭০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছরে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩০ হাজার টন।