মালয়েশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম গত বছরের তুলনায় এ বছর কম। এর পরও চলতি বছর পাম অয়েল খাত ভালো ব্যবসা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৩ সালে টনপ্রতি অপরিশোধিত পাম অয়েলের গড় দাম হতে পারে ৩ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ হাজার ১০০ রিঙ্গিত এবং ২০২১ সালে ছিল ৪ হাজার ৪০৭ রিঙ্গিত।
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) মহাপরিচালক ড. আহমেদ পারভেজ গুলাম কাদির বলেন, আগের দুই বছরের চেয়ে এবার গড় দাম কম ধরা হয়েছে। তবু কিছু বিশেষ কারণে নতুন বছরে আমরা ভালো সক্ষমতার প্রত্যাশা করছি। পাম অয়েলের শক্তিশালী চাহিদা এ খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
ড. আহমেদ পারভেজ আরো বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী সূর্যমুখীর তেলের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সূর্যমুখী তেলের বিকল্প হিসেবে পাম অয়েলের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেল ও ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে যাওয়াও পাম অয়েলের চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
২০২১ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে টনপ্রতি অপরিশোধিত পাম অয়েলের গড় দাম ছিল ৪ হাজার ৩৬৩ রিঙ্গিত, যা ২০২২ সালের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫ হাজার ১৬৭ রিঙ্গিতে।
এমপিওবির তথ্যানুযায়ী, গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে উৎপাদন বেশি হওয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম কমে গিয়েছিল। সে সময় পাম অয়েলের মজুদ বেড়ে যায় এবং সয়াবিন তেলের দামও কমে যায়।
এ পরিস্থিতিতে চলতি বছরের জন্য টনপ্রতি অপরিশোধিত পাম অয়েলের দামের পূর্বাভাস ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত। আবহাওয়ার পরিস্থিতি, উৎপাদনের উচ্চহার ইত্যাদি মিলিয়েই এ পূর্বাভাস ঠিক করা হয়েছে।
আহমেদ পারভেজ বলেন, চলতি বছর ব্রাজিলে সয়াবিনের যথেষ্ট উৎপাদন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা অপরিশোধিত পাম অয়েলের দামে কিছুটা প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মানও এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
সিপিটিপিপি চুক্তিকে মালয়েশিয়া অনুসমর্থন দেয়ায় কানাডা, মেক্সিকো ও মেরুর মতো নতুন বাজারে তুলনামূলক কম শুল্কে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশটির পাম অয়েল। বিশ্ববাজারে প্রচুর পরিমাণে পাম অয়েল রফতানির পরও সিপিটিপিপি সদস্য দেশগুলোর বাজারে শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় যথেষ্ট সুবিধা ভোগ করবে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাম অয়েলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৩ সালের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ টন। এ বছর মজুদও ভালো। সব মিলিয়ে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, পাম ফল চাষ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে কর্মী সংকট ছিল তা কাটিয়ে ধীরগতিতে হলেও প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে।










