ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবরোধ ও মূল্য বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রথম মাসে সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ৯ শতাংশ কমেছে। তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি দিনপ্রতি ৩০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
গত ৫ ডিসেম্বর সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। অস্ট্রেলিয়া ও জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মিলে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে বেঁধে দেয় ইইউ। পশ্চিমা ব্লকের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ওই দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তেলজাত পণ্য সরবরাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী পাঁচ মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
গত নভেম্বরে সমুদ্রপথে দৈনিক ৩০ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছিল। ডিসেম্বরে তা ২ লাখ ৬৬ হাজার ব্যারেল কমে দিনপ্রতি ২৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
সমুদ্রপথে সার্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কমলেও গত মাসে সর্বোচ্চ আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। বছরের শেষ মাসে ভারত দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। একই সময়ে চীনেও স্বাভাবিক ছিল রুশ জ্বালানি রফতানি। ডিসেম্বরে দৈনিক ৯ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে রুশ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি। সমুদ্রপথে রাশিয়ার মোট জ্বালানি তেল আমদানির ৮২ শতাংশই ছিল চীন-ভারতের।
ভারত, চীনের পাশাপাশি এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া। এর মধ্যে সামনের সারিতে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশ। রাশিয়ার জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের প্রথম মাসে সমুদ্রপথে দৈনিক ৪৪ হাজার ৭২৫ ব্যারেল আমদানি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। নভেম্বরে দৈনিক এ আমদানির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৫০০ ব্যারেল। ২০২২ সালের জুনের পর থেকে রুশ জ্বালানি তেল আমদানি একেবারে বন্ধ করে দিলেও ডিসেম্বরে দৈনিক ২২ হাজার ৬০০ ব্যারেল করে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে জাপান। তবে ইউরোপে রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ইতালির আমদানি ৭১ শতাংশ কমেছে। গত ডিসেম্বরে ইউরোপীয় দেশটি দৈনিক ৩৪ হাজার ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। অন্য শীর্ষ আমদানিকারক দেশ নেদারল্যান্ডস গত মাসে একেবারে আমদানি করা থেকেই বিরত থেকেছে। গত নভেম্বরে যেখানে রাশিয়া থেকে দৈনিক ১ লাখ ২ হাজার ৮৩৫ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে দেশটি।
এদিকে সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) গত বুধবার জানায়, রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্তে দৈনিক ১৬ কোটি ইউরো খোয়াচ্ছে মস্কো। ডিসেম্বরে রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি থেকে আয় ৩২ শতাংশ কমেছে বলে জানায় সিআরইএ।










