বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। সরবরাহ সংকটসহ নানা কারণে বাড়ছে কাঁচামালের দাম। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বহু প্রতিষ্ঠানকেই নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচ ধরনের খাবারের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত ফাস্টফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ড। চলতি সপ্তাহ থেকেই এ বর্ধিত দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত গ্রীষ্মে ম্যাকডোনাল্ডের জনপ্রিয় চিজ বার্গারের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেবার এ খাবারের দাম বাড়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর। খবর বিবিসি।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বে মূল্যস্ফীতি চললেও তার রেশ ম্যাকডোনাল্ডের ওপর খুব একটা পড়েনি। গত বছর কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি। ম্যাকডোনাল্ড সবসময়ই বলে এসেছে তারা ক্রেতার হাতে সুলভ মূল্যে পছন্দের খাবারটি তুলে দিতে চায়। এর পরও অন্য অনেক ব্যবসার মতো ম্যাকডোনাল্ডেও এসে পড়েছে বিশ্বব্যাপী অব্যাহতভাবে খাদ্য ও জ্বালানির দামের প্রভাব। ক্রমবর্ধমান এ চাপ পড়েছে মূল কোম্পানি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোন দামে খাবার বিক্রি করবে তা ম্যাকডোনাল্ড নির্ধারণ করে দেয় না। তবে দামের একটি সীমা নির্ধারিত থাকে। যেমন মায়ো চিকেনের দাম ৯৯ পেনি থেকে ১ দশমিক ১৯ পাউন্ডের মধ্যে রাখতে হয়। একইভাবে বেকন মায়ো চিকেনের দাম ১ দশমিক ৫৯ পাউন্ড থেকে ১ দশমিক ৭৯ পাউন্ড, বেকন ডাবল চিজ বার্গারের দাম ২ দশমিক ৪৯ পাউন্ড থেকে ২ দশমিক ৬৯ পাউন্ড, ট্রিপল চিজ বার্গার ২ দশমিক ৬৯ পাউন্ড থেকে ২ দশমিক ৮৯ পাউন্ড, মাঝারি আকারের কার্বোনেটেড পানীয়ের দাম রাখতে হয় ১ দশমিক ৩৯ পাউন্ড থেকে ১ দশমিক ৪৯ পাউন্ডের মধ্যে।

ম্যাকডোনাল্ড আরো জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১২০টি আউটলেটে সেভার মিলস নামে একটি খাবারের প্যাকেজ পরীক্ষামূলকভাবে চালুর চেষ্টা চলছে। উদাহরণ হিসেবে একটি চিজ বার্গার, এর সঙ্গে সাইড ডিশ হিসেবে যেকোনো একটি খাবার এবং একটি পানীয়ের মোট দাম ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৯৯ পাউন্ড। এ দামে ক্রেতা এ পরিমাণ খাবার কিনতে আগ্রহী হবেন কিনা বা ক্রেতার জন্য এটি সহনীয় কিনা তা দেখার জন্য এ পরীক্ষা।

এর আগে গত গ্রীষ্মে চিজ বার্গারের পাশাপাশি ব্রেকফাস্ট মিল, বড় কাপের কফি, ম্যাক নাগেটসের দাম বাড়িয়েছিল ম্যাকডোনাল্ড। এছাড়া খাবারের বক্সের আকারেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

বিশ্বজুড়েই প্রায় সব ধরনের খাবারের দাম বাড়ছে। সেসঙ্গে অনেকটা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ক্রমেই বাড়ছে, যদিও অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ১ শতাংশ, যা ডিসেম্বরের ১০ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে কম। একই সময়ে দেশটির খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে দেশটিতে যে গতিতে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য, খাদ্যের দাম, সে অনুপাতে বাড়ছে না মজুরি। যার কারণে বিপাকে পড়েছে পরিবারগুলো। বাজেটে কাটছাঁট করে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

কেবল ম্যাকডোনাল্ডই নয়, আরো অনেক প্রতিষ্ঠানই দাম বাড়িয়েছে বা ঘোষণা দিয়েছে। বৈশ্বিক কোমল পানীয়ের বাজারে আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা ও পেপসিকো গত বছর কয়েক দফায় দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। বিশ্বজুড়ে ১১ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে কোকা-কোলা, এ সময়ে পেপসিকো দাম বাড়িয়েছে ১৪ শতাংশ। কোকা-কোলা আরো জানিয়েছে, চলতি বছর কোমল পানীয়ের দাম আবারো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।