আগামী গ্রীষ্মে সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। মুদ্রানীতি শিথিল করার ক্ষেত্রে বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাজারের প্রত্যাশাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর ইউরোনিউজ।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যানুযায়ী, ইউরো এলাকায় বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৯ শতাংশ ছিল, যা নভেম্বরের ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেশি। এপ্রিলের পর এবারই প্রথম মূল্যস্ফীতির হার আগের মাসের চেয়ে বেশি হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে।
আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে আশা করছেন, ইসিবি ২০২৪ সালে সুদহার মোট ১৫৭ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে আনবে। ছয়বারে প্রতিবার ২৫ পয়েন্ট করে কমানো হবে। তবে এর ধারাবহিকতায় মূল্যস্ফীতির চাপ কমলেও ইউরোপের অর্থনীতিতে শ্লথতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দাভোসে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আলোচনার সময় ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দেকে আসন্ন সুদহার কমানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ইসিবির অন্য নীতিনির্ধারকরা এ ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন কিনা, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর উত্তরে ক্রিস্টিন লাগার্দে ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেছেন, ‘অতিরিক্ত আশাবাদী আর্থিক খাত ইসিবির মূল্যস্ফীতির লড়াইয়ে সাহায্য করবে না।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলছে ইসিবি। ব্যাংককে এ লক্ষ্যমাত্রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধরে রাখতে হবে। আমরা আশাবাদী ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে এখনো অনেক কিছু করার বাকি।’
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মজুরি, মুনাফার মার্জিন, জ্বালানির দাম, সরবরাহ চেইনসহ বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক সূচক ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসিবি। ইউরো অঞ্চলের বেকারত্বের হার নভেম্বরে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে স্থির ছিল। এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকে দেশটির মজুরি ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।










