পণ্য পরিবহনের জন্য রাইন নদীর ওপর অনেকখানি নির্ভর করে জার্মানি। নদীপথে কয়লা থেকে নিয়ে রাসায়নিক পণ্য পরিবহন করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাইনের পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে থাকায় ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় পণ্য পরিবহনের নতুন উপায় খুঁজছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
১ হাজার ২৩০ কিলোমিটার বা ৭৬৪ দশমিক ২৯ মাইলের রাইন নদী পরিচিত বিখ্যাত পর্যটন গন্তব্য হিসেবেও। তবে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসসহ জার্মানির ৮০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের বাণিজ্যিক ধমনীও রাইন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নদীর পানির স্তর ওঠানামা করছে। বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২২ সালে দীর্ঘ সময়ের জন্য পানির স্তর নিচে নেমে যায়। বর্তমানে রাইন নদীর কিছু অংশে পানির স্তর আবারো কমে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজগুলো এর সম্পূর্ণ ধারণ সক্ষমতা নিয়ে চলাচল করতে পারছে না।
জাহাজের ধারণ সক্ষমতা অনুসারে এগুলো ১৫০ ট্রাক ওজনের পণ্য বহন করতে পারে। পানির স্তর কম থাকায় এসব নৌযান পুরোপুরি বোঝাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় কম সক্ষমতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে শিপিং, পণ্য পরিবহনসহ সামগ্রিক সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলছে। রাইনের গুরুত্বপূর্ণ চোকপয়েন্ট কাউবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে এখানে পানির স্তর বছরের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। গত বছর জার্মানির জলপথে পরিবহন করা হয় ১৮২ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্য। যদিও তা ২০২১ সালের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কম, বিশেষ করে দুই জার্মানির পুনর্মিলনের পর সর্বনিম্ন।
দাহ্য ও বিষাক্ত রাসায়নিক পণ্যের ক্ষেত্রে নদীটি প্রায়ই পরিবহনের একমাত্র কার্যকর বিকল্প। জার্মানির রাসায়নিকপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোভেস্ট্রোর চূড়ান্ত উৎপাদিত পণ্যের ৩০ শতাংশের বেশি পরিবহন করা হয় রাইনের জলপথ দিয়ে। তাদের বেশির ভাগ কাঁচামালও আসে রাইনের ওপর দিয়ে। কোভেস্ট্রোর রাইন টাস্কফোর্সের প্রধান উয়ে আর্ন্ডট বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির ক্রমবর্ধমান নিম্নস্তর কোভেস্ট্রোর পাশাপাশি অন্যান্য কোম্পানির জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’
কোভেস্ট্রো পণ্য পরিবহনের জন্য কম পানিতে চলাচল করতে পারে এমন দুটি ছোট জাহাজ ভাড়া করেছে। পানির স্তর দশমিক ৪০ মিটার নেমে গেলেও এগুলো দিয়ে গ্রাহকদের জন্য তারা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড সরবরাহ করতে পারবে। জার্মানির বৃহত্তম পরিবহন সমবায় ডিটিজি শিপিং জানাচ্ছে, কাউবের পানির স্তর এক মিটারের নিচে নামা মানে ঐতিহ্যবাহী বার্জগুলোর (পণ্য পরিবহনের ছোট জাহাজ) সক্ষমতা অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ টনের নিচে নামাতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের জের ধরে দক্ষিণ ইউরোপকে গ্রাস করছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ফেডারেল ওয়াটারওয়েজ ও শিপিং এজেন্সিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা পানির স্তরের নিম্নগামী প্রবণতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় পণ্য পরিবহনের নতুন কৌশল নিয়ে ভাবতে হচ্ছে জার্মানিকে। কেননা রাইনের শুষ্কতার প্রভাব শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মোট দেশীয় পণ্য উৎপাদনের সঙ্গেও সম্পর্কিত।










