জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কয়লা উত্তোলন বাড়াচ্ছে চীন। এপ্রিলে দৈনিক উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও মার্চে রেকর্ড উত্তোলন থেকে পিছিয়ে ছিল খনিগুলো।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা উত্তোলনকারী দেশ। ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, গত মাসে দেশটি ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে গড়ে ১ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টনে। তবে উত্তোলন বাড়লেও জ্বালানিটির চাহিদা ছিল নিম্নমুখী।
তথ্য বলছে, গত মার্চে চীন দৈনিক ১ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করেছিল। দৈনিক উত্তোলনে এমন উল্লম্ফন আর দেখা যায়নি। গত বছরের একই সময় দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার টন।
ব্যুরোর দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪৫ কোটি টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
প্রতিদিন ১ কোটি ২৬ লাখ টনেরও বেশি কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে চীন। দেশটি ৬২ কোটি টনের জাতীয় মজুদ তৈরি করছে। উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানিটির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
চীনের যেসব প্রদেশ কয়লা আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল, সেগুলোকে স্থানীয় কয়লা উৎপাদকদের সঙ্গে অন্তত এক বছর মেয়াদি চুক্তি করতে আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। উদ্দেশ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কয়লা উত্তোলনে সহায়তার লক্ষ্যে ব্যাংকটি এরই মধ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি ইউয়ান ঋণ বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ কয়লা উত্তোলন, মজুদ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য কাজে লাগানো হবে।
এদিকে তাপীয় কয়লার বাজারদর কমিয়েছে বেইজিং। স্পট ট্রেড অ্যান্ড টার্ম কন্ট্রাক্টর্সের আওতায় মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ শিথিল হবে বলে মনে করছেন সরকারসংশ্লিষ্টরা।
তবে উত্তোলন বাড়লেও পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ খাতে জ্বালানিটির চাহিদা নিম্নমুখী। বড় পরিসরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লান্টগুলো করোনা মহামারীজনিত লকডাউনের কারণে বন্ধ। এতে চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। উৎপাদনও এ কারণে ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্য বলছে, ৭ মে পর্যন্ত চীনের উপকূলীয় আট প্রদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লার মজুদ ছিল ২ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৫ শতাংশ বেশি।










