আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিদ্যমান সম্পদ দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মিজুহো ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ। এর মাধ্যমে সম্পদের মোট মূল্য ১ লাখ কোটি ডলার বা ১৪৮ লাখ কোটি ইয়েনে নিয়ে যাওয়া হবে। সম্প্রতি জাপানিজ ব্যাংকিং কনগ্লোমারেটের একজন শীর্ষ নির্বাহী নিক্কেই এশিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

মিজুহোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরিয়ুকি সাতো। তিনি জানান, সম্পদের মূল্য বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রুপটি বেসরকারি ঋণের মতো বিকল্প আর্থিক কৌশল বিবেচনা করবে। মূলত এর মাধ্যমে করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের তহবিল ধার দেয়া ছাড়াও রিয়েল এস্টেটে বা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা যায়।

বর্তমানে মিজুহোর সম্পদের পরিমাণ ৬৭ লাখ কোটি ইয়েন। এছাড়া গ্রুপটির ব্যবসায়িক অংশীদার রাকুতেন সিকিউরিটিজ শিগগিরই গ্রাহকদের জন্য আলাদা বিনিয়োগ পণ্য প্রকাশ করবে।

বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকরক। ২০২২ সালের শেষ দিকে মার্ক-টু-মার্কেট ভিত্তিতে কোম্পানিটির ৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পরিচালনাধীন সম্পদ ছিল। এরপর ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যানগার্ড গ্রুপ। নরিয়ুকি সাতো জানান, মিজুহো ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১ ট্রিলিয়ন বা তার বেশি মূল্যের সম্পদ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর ক্লাবে যুক্ত হবে, যার প্রেক্ষিতে দেশটির অর্থনীতি আরো বিস্তৃত হবে। মিজুহো প্রাথমিকভাবে তার সহায়ক সংস্থা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ওয়ানের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ করে থাকে। দাই-ইচি লাইফ হোল্ডিংসের কাছে এর আংশিক মালিকানাও রয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে মিজুহো গ্রুপের সম্পদ ব্যবস্থাপনা সেবাগুলো একত্রীকরণের মাধ্যমে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ওয়ানের যাত্রা। 

নরিয়ুকি সাতো জানান, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় জাপানের শীর্ষ কোম্পানি হলেও অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট ওয়ানকে বৈশ্বিক পর্যায়েও প্রতিযোগিতা করতে হবে। অন্যান্য খাতে বিনিয়োগকে শক্তিশালী করতে সহায়ক সংস্থাটি বিনিয়োগ ও অধিগ্রহণ চুক্তির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করবে বলেও জানান তিনি।

নরিয়ুকি সাতো বলেন, ‘নিক্কেই স্টক এভারেজ ও অন্যান্য শেয়ার সূচকের সঙ্গে যুক্ত প্যাসিভ ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট ছাড়াও রাকুতেনের গ্রাহকদের কম খরচে সক্রিয় তহবিল অফার করবে মিজুহো।’

নরিয়ুকি সাতো ১৯৮৯ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক অব জাপানে যোগ দেন এবং ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে এর নাম পরিবর্তন করে মিজুহো ব্যাংক করা হয়। এছাড়া তিনি ডিয়াম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও একটি রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) ম্যানেজমেন্ট দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন।