ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক হারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এতে দেশটির অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটির অর্থনীতি প্রাক-নিষেধাজ্ঞার পর্যায়ে ফিরতে এক দশক প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির শীর্ষ একজন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ। খবর রয়টার্স।
রাশিয়ার আর্থিক পরিষেবা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সুবারব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জার্মান গ্রেফ বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার বাণিজ্য অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। কারণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলো আমাদের রফতানিতে ৫৬ শতাংশ এবং আমদানিতে ৫১ শতাংশ অবদান রাখে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তাদের মিত্ররা রাশিয়ার ওপর বিস্তৃত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মস্কো ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর এসব নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটিতে কার্যক্রম স্থগিত করেছে বেশির ভাগ পশ্চিমা প্রতিষ্ঠান। মার্কিন ফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ড’সের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ব্যবসা বিক্রি করে বেরিয়ে এসেছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সাবেক অর্থমন্ত্রী গ্রেফ বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জিডিপির ১৫ শতাংশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। যদিও পুরো অর্থনীতিই জ্বলন্ত আগুনের নিচে রয়েছে। ফলে আমরা যদি কিছুই না করি, তবে অর্থনীতি ২০২১ সালের পর্যায়ে ফিরতে প্রায় এক দশক লাগবে। এ অবস্থায় তিনি রুশ অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারের আহ্বান জানান।
রাশিয়ার ব্যাংক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত বিদেশী প্রতিপক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটির গাড়ি, জ্বালানি ও উড়োজাহাজ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং যন্ত্রাংশ আমদানির পথও রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।
জার্মান গ্রেফ বলেন, পণ্যবাহী চালান ছয়গুণ কমে গিয়েছে। যেখানে সমুদ্র ও আকাশপথে পরিবহনও বাধার মুখোমুখি হয়েছে। কারণ দেশটির এয়ারলাইনসগুলো পশ্চিমা দেশগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না এবং রুশ পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে ইইউর বন্দরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করে রুশ কর্মকর্তারা বলেছেন, অর্থনীতি প্রাথমিক আশঙ্কার তুলনায় অনেক ভালো করেছে। কারণ এরই মধ্যে রফতানি প্রবাহে বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ জ্বালানির দাম সরকারের রাজস্ব বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করেছে। যদিও জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোই অনেকাংশে দায়ী।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের মধ্যে রুশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া তার অর্ধেকেরও বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য নতুন গন্তব্য হিসেবে এশিয়াকে বেছে নিয়েছে। একই ফোরামের আলোচনায় দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম নেফটের প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার ডিউকভ এ তথ্য তুলে ধরেন।
উত্তর-পশ্চিম এবং সুদূর পূর্ব ও দক্ষিণে সামুদ্রিক টার্মিনালসহ রাশিয়ার শীর্ষ রেলওয়ে কার্গো প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকনটেইনার ও গ্লোবাল পোর্টস ফার্ম পরিচালনা করা ডেলো গ্রুপের প্রধান নির্বাহী দিমিত্রি পানকভ বলেন, পণ্যের চালান অব্যাহতভাবে কমে যাওয়ার এ সময়ে এশীয় গ্রাহকদের উত্থান শুরু হয়েছে। যদিও এ গ্রাহকরা বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সেগুলো বেশির ভাগই স্থানীয় অপারেটর।










