সম্প্রতি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোয় এয়ার কন্ডিশনিং কমানোর ওপর জোর দিয়েছে গ্রিস সরকার। পাশাপাশি উইন্ডো শিল্ড স্থাপন ও কাজ শেষ হলে কম্পিউটার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জের ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয় বিশ্ববাজারে। এর ধারাবাহিকতায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বাড়তি দাম মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে গ্রিসের জনসাধারণ। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারগুলোয় ভর্তুকি দিতে শুরু করে গ্রিস সরকার। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ কোটি ইউরো ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।
বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করছে দেশটি। ব্যয় বাঁচাতে স্বল্প মেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা গ্রিসের। এ বিষয়ে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাধারণ সচিব আলেক্সান্দ্রা সুডোকু বলেন, আমরা সবাই এ সহজ জ্বালানি সাশ্রয় পদক্ষেপের গুরুত্ব বুঝি। আমাদের জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারি।
২০২০ সালে মোট ২ লাখ ১২ হাজার রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার ব্যবহূত বিদ্যুতের বিল ছিল ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। গত বছরও বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল একই রকম, প্রায় ৫ হাজার ৩৪৬ গিগাওয়াট। তবে চলতি বছর এ ব্যয় বেড়ে প্রায় ১১৬ কোটি ইউরোতে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রিসের অর্থমন্ত্রী থিওডরোস স্কাইলাকাকিস বলেন, গ্রিসের পরিবার ও ব্যবসাগুলোকে সহায়তা করতে সর্বশেষ প্রকল্প থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করছে সরকার।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয় করতে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে গ্রিস সরকারের। ইলেক্ট্রা নামের এ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। গ্রিসের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ম্যাকিস ভোরিডিস বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে বহুবিধ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্রিট লাইটগুলোর উন্নয়ন করার পাশাপাশি এয়ার কন্ডিশনিংয়ের ব্যবহার কমানো। এছাড়া এয়ার কন্ডিশনার সুরক্ষিত রাখাও প্রয়োজন।










