কোম্পানিটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) তৃতীয় কারখানা স্থাপন করছে বার্জার পেইন্টস। কারখানার উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নকশা পরিবর্তন, উন্নত অটোমেশন, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা (এমইএস) যুক্ত করা এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটি কারখানায় বিনিয়োগের পরিমাণ ৮১৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৯৮০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে কোম্পানিটির পর্ষদ তৃতীয় কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে। এর আগে চলতি এপ্রিলে কারখানায় উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে রাইট শেয়ার থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যয়ের সময়সীমাও ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্জার পেইন্টস। এরই মধ্যে সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিয়েছে কোম্পানিটি।

তৃতীয় কারখানায় বিনিয়োগের জন্য গত বছরের আগস্টে পুঁজিবাজার থেকে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০২ কোটি ৮২ লাখ ৩ হাজার ২১০ টাকা সংগ্রহ করে বার্জার পেইন্টস। গত মার্চের মধ্যে এ তহবিলের পুরো অর্থ ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাইট শেয়ারের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ বা ৫৬ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) বার্জার পেইন্টসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫৫ টাকা ৪৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫২ টাকা ২০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮০ টাকা ৮৬ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে বার্জার পেইন্টসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭২ টাকা ৬৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৯ টাকা ৯২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ টাকা ৪২ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বার্জার পেইন্টসের ইপিএস হয়েছে ৬৯ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৪ টাকা ৯১ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩০৯ টাকা ৫৩ পয়সায়।

বার্জার পেইন্টসের সর্বশেষ ঋণমাণ দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ মার্চ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বার্জার পেইন্টসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৯ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৫০৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৯৯১। এর ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ২৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসই গতকাল বার্জার পেইন্টসের শেয়ার সর্বশেষ ১ হাজার ৩৮৯ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৮১০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।