ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও যুক্তরাজ্যে কাগুজে ও ধাতব মুদ্রা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ইউকে ফাইন্যান্স বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশটিতে ২০২৩ সালে কাগুজে ও ধাতব মুদ্রা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল আগের বছরের তুলনায় ছয় লাখ বেশি। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, মানুষের মধ্যে দৈনন্দিন খরচ কমানোর যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবে নগদ লেনদেনকারীর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে কাগুজে ও ধাতব মুদ্রা ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক বছর ধরে কমছে। কমতে কমতে ২০২২ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় নয় লাখে। কিন্তু গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ লাখে, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যে কাগুজে ও ধাতব মুদ্রা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২৩ সালেই সবচেয়ে বেশি ছিল।

ইউকে ফাইন্যান্স বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে অনেকে কাগুজে ও ধাতব মুদ্রার ব্যবহার বাড়িয়েছেন। সম্ভবত তাদের কারণে এ সংখ্যা বেড়েছে।

গত বছর যুক্তরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যাশ স্টাফিং’ প্রবণতা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ‘ক্যাশ ইনভেলপ’ নামেও পরিচিতি পায় এ প্রবণতা। এ পদ্ধতিতে সংসারের মাসিক খরচ আলাদা আলাদা খামে ভরে রাখা হয়। খরচের লাগাম টানতে এ পদ্ধতিকে অনেকেই কার্যকর মনে করেন।

ইউকে ফাইন্যান্সের এক মুখপাত্র বলেন, ‘কাগুজে মুদ্রায় লেনদেন সত্যিই বেড়ে গেছে কিনা, নাকি কেবলই একটি পরিসংখ্যান, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

মুখপাত্র বলেন, ‘‌নিম্ন আয়ের মানুষ সাধারণত কাগুজে মুদ্রা ও কয়েনের ব্যবহার বেশি করে। কিন্তু প্রতিবেদনে যাদের তথ্য উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে সচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া এ প্রবণতা সব বয়সী ও গোষ্ঠীর মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।’

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যারা কাগুজে মুদ্রা ব্যবহার করছেন, তারা ক্যাশলেস লেনদেন কিংবা ব্যাংক সম্পর্কে নেতিবাচক কোনো ধারণা পোষণ করেন না। ক্যাশলেস লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়েও তাদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই। এমনকি এদের প্রায় সবারই ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ড রয়েছে।

ইউকে ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাশলেস লেনদেনকারী কিংবা যারা মাসে সর্বোচ্চ একটি লেনদেন নগদ অর্থে করেন, এমন মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৩ সালে এমন মানুষের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২১ লাখ।

কিছু ক্যাম্পেইনার বলছেন, গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী যে আইটি বিভ্রাট দেখা দেয়, তার প্রভাবে অনেকের মধ্যে ক্যাশলেস সোসাইটি নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইউকে ফাইন্যান্সের প্রতিবেদন সম্পর্কে এটিএম নেটওয়ার্কবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লিংক বলছে, লাখ লাখ মানুষের কাছে কাগুজে মুদ্রা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লেনদেনের অন্যসব মাধ্যম যখন বন্ধ থাকে, তখন কাগুজে মুদ্রাই ভরসা হয়ে ওঠে, যেটা আমরা গত সপ্তাহের আইটি বিভ্রাটের সময় দেখেছি।