যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ নতুন করে সুদহার না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর ডলারের বিনিময় হার কমতে শুরু করেছে। এর বিপরীতে ইউরো, ইউয়ান, ইয়েনসহ অন্যান্য মুদ্রার বিনিময় হার শক্তিশালী হয়েছে।

চীনে ১ ডলার মিলছে ৭ দশমিক ১৩০১ ইউয়ানে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এটা চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মুদ্রা বিনিময়ের চার্টগুলোয় ডলারের বিনিময় হারের রেখা নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। ইউরোর বিনিময় হার শূন্য দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ০৯৬৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। মধ্য আগস্টের পর থেকে এটা সর্বনিম্ন। ইয়েনের বিনিময় হার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ১ ডলারের বিনিময়ে মিলছে ১৪৭ দশমিক ৫ ইয়েন। সাত মাসের মধ্যে এটা ইয়েনের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান।

নিউজিল্যান্ড ডলারের বিনিময় হার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এর বিনিময় হার শূন্য দশমিক ৬০৫০ মার্কিন ডলার। ছয় মাস আগে এটা ছিল শূন্য দশমিক ৬০৭২ মার্কিন ডলার। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। বর্তমানে এর বিনিময় হার শূন্য দশমিক ৬৫৮৫ মার্কিন ডলার। এটা তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সিডনির ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের পরিকল্পনাবিদ রড্রিগো কাট্রিল জানান, চীনা মুদ্রার বিনিময় হার বাড়ায় পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘‌এটা উৎসাহব্যঞ্জক। বিনিয়োগকারীরা এখন ভাবার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা চীনা মুদ্রার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দেখেছি। এখন প্রশ্ন শোনা যায় যে ডলার নাকি ইউয়ান, কোনটা চান?’

একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে যে চীনা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারীরা বিনিয়োগকারীদের তালিকা বড় করার অনুমতি দিয়েছেন। একই সময় সুদহার শীর্ষে অবস্থান করায় যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে। জাপানি ইয়েন এরই মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় লোহা রফতানি বাড়ায় দেশটির ডলার বিনিময় হারে সুবাতাস বইছে। এটা কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থান।

অস্ট্রেলিয়ায় নভেম্বরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদহার না বাড়ায় তাহলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না বলে মতামত দেয়া হয়েছে।

আট সূচকের মধ্যে সাতটিতেই ডলারের ইনডেক্স পতনমুখী। ২০০ দিনের গড় উত্থান-পতন অনুযায়ী এটা এখন নিম্নমুখী।

স্টার্লিংয়ের বিনিময় হার দুই মাসে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এটা বর্তমানে ১ দশমিক ২৫৪০ ডলারে বিনিময় হচ্ছে। সুইস ফ্রাঙ্ক সেপ্টেম্বরের শুরুতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে চলে এসেছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মুদ্রা আরো উজ্জ্বল হচ্ছে। সুইডিশ ক্রোনা সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে। নরওয়েজিয়ান ক্রোন দুই মাসের মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী।

মোটামুটি সবাই ধরে নিয়েছে যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ঋণের সুদহার আর বাড়াবে না। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিন লাগার্দ প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন। তবে বিশেজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ডলারের এ পতন খুব বেশি দিন অব্যাহত থাকবে না।

জাপানের মিজুহো ব্যাংকের অর্থনীতি শাখার এশীয় প্রধান বিষ্ণু ভারাথান বলেন, ‘‌আমি মনে করি, ফেডের উচিত বাস্তবতাকে মেনে নেয়া। সবকিছু বাজপাখির চোখে দেখা ঠিক হবে না। ইল্ড কোথায় যাচ্ছে তা মনে রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌যদি ইল্ড খুব বেশি কমে, তাহলে স্বয়ংক্রিয় কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। ডলারের বিনিময় হার পতনের হাত থেকে আটকানো সম্ভব। তবে ডিসেম্বরে ফেড কী করবে তা দেখার আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

১০ বছরের মধ্যে ট্রেজারি ইল্ডের ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট থেকে চলতি মাসে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

এর তুলনায় এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রাবাজার ঊর্ধ্বমুখী। যদিও আর্জেন্টিনার মুদ্রার বিনিময় হার একেবারে তলায় ঠেকে গেছে। তবে সম্প্রতি নির্বাচনের পর দেশটিতে ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হয়েছে।