মহামারী পরিস্থিতি ব্যবসা অঙ্গনে অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। একসময় স্বনামধন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামই কর্মীদের আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট ছিল। এখন সে চিত্র বদলেছে। ব্র্যান্ডের সুনামের চেয়ে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন কর্মীরা। প্রয়োজনীয় টুলস, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও তথ্যের অভাব হলে কর্মীরা নতুন চাকরির সন্ধান করছেন। এমন তথ্যই উঠে এসেছে ফ্রেশওয়ার্কসের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়। খবর খালিজ টাইমস।
কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে লকডাউন জারি করা হয়। এতে করে গৃহবন্দি হয়ে পড়ে সব স্তরের মানুষ। প্রতিকূল সময়ে ঘরে বসেই কাজ করেছেন কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সুবিধাও দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কভিড পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ায় কর্মীরা আবারো প্রতিষ্ঠানে ফিরেছেন। প্রযুক্তিগত সুবিধায় অভ্যস্ত কর্মীরা এখন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব দেখা দিলে বিকল্প চাকরির অনুসন্ধান করছেন। সম্প্রতি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ফ্রেশওয়ার্কস এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় উঠে আসে প্রযুক্তিগত দিক থেকে কর্মীদের প্রত্যাশা ও বাস্তব কর্মপরিবেশের চিত্র।
ফ্রেশওয়ার্কসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা সেনসাসওয়াইড ৬ হাজার ৬৯৮ কর্মী ও ২ হাজার লাইস অব বিজনেসের (এলওবি) নেতৃস্থানীয়দের ওপর সমীক্ষা চালায়। এর মধ্যে ১০০-৫০০ জন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, এপিএসি ও এমইএর কর্মী ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে এ পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়।
এ বিষয়ে ফ্রেশ ওয়ার্কসের প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা স্টেসি এপস্টেইন বলেন, বর্তমান হাইব্রিড বিশ্বে কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে সে রকম পরিবেশ প্রত্যাশা করেন, যেমনটা একজন ভোক্তা হিসেবে তারা আশা করেন। এটি একটি বৈশ্বিক ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে। বর্তমান প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান এ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সক্ষম, কেবল তারাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে।
এদিকে মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে আঞ্চলিক ব্যবসাগুলোর প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক হওয়ার হার দ্বিগুণ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার প্রায় ৪৭ শতাংশ কর্মীর ভাষ্যমতে, কাজে প্রযুক্তিগত সমস্যার ফলে চাপ বেড়েছে। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ বিশ্লেষকদের মতে, কর্মীদের ভালো কর্মপরিবেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সুবিধা অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্যবসায়িক নেতা আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার তাগিদ অনুভব করছেন। সমীক্ষায় জানা যায়, ওই অঞ্চলের প্রায় ৭৯ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি, যন্ত্র, সরঞ্জাম ও তথ্যের অভাব হলে বিকল্প চাকরির সন্ধান করবেন। প্রায় ৫৬ শতাংশের মত, প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ করা হলে তারা বিকল্প খোঁজা থেকে নিরস্ত হবেন। এছাড়া ৫১ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলে যথাযথ প্রযুক্তিগত সুবিধা দেয়ার ফলে কাজে সন্তুষ্টি বেড়েছে।
এ বিষয়ে ফ্রেশওয়ার্কস এপিএসি অ্যান্ড এমইএর জ্যেষ্ঠ পরিচালক বিশাল চোপরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জামগুলো উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের কাজের সুবিধার জন্য প্রযুক্তিগত সুবিধা দেয়া প্রয়োজন।
এদিকে ফ্রেশওয়ার্কের সমীক্ষায় ৮৬ শতাংশ এলওবি নেতা বলছেন, মহামারীর পর থেকে আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধার প্রত্যাশা করছেন কর্মীরা। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ (৭২ শতাংশ) কর্মী প্রযুক্তি ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।










