প্রথমবারের মতো জাপানি সি ফুড আমদানি শুরু করছে মার্কিন প্রশাসন। আমদানীকৃত সি ফুড দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করা হবে। এর আগে গত আগস্টে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়ার প্রতিক্রিয়ায় চীন সব ধরনের জাপানি সামুদ্রিক খাবার নিষিদ্ধ করে। মূলত বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় টোকিও থেকে সি ফুড আমদানির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর দ্য জাপান টাইমস।  

সম্প্রতি জাপানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল তার একটি সাক্ষাৎকারে এ উদ্যেগের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‌বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে। এটিকে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ বলেই আমরা মনে করছি। চীন আগে জাপানের সবচেয়ে বড় সি ফুড আমদানিকারক ছিল। ফলে বেইজিংয়ের এ নিষেধাজ্ঞা টোকিওর খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।’  

গত আগস্টে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, ক্ষতিকর পদার্থ থেকে প্রশান্ত মহাসাগর মুক্ত রয়েছে। এর ভিত্তিতে গত রোববার জি-৭-এর এক বৈঠকে জাপানের এই সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। 

জাপানের মৎস্য ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘‌চীনের অর্থনৈতিক জবরদস্তি রোধে আমরা বিভিন্ন দেশ বা তাদের শিল্প বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে আসছি।’

আমদানীকৃত এ শামুক মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর মেস এবং জাহাজগুলোয় খাদ্য হিসেবে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ইমানুয়েল। এছাড়া সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত বিভিন্ন দোকান এবং রেস্তোরাঁয় বিক্রি হবে আমদানীকৃত এই শামুক। এর আগে কখনো জাপানের স্থানীয় সামুদ্রিক খাবার আমদানি করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।