মূল ভূখণ্ডের বাইরে সমুদ্র থেকে (অফশোর) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে ব্রাজিল। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। বাকিগুলোর ঘোষণা এসেছে মাত্র। চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের অধীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হলে অফশোর জ্বালানি তেল উত্তোলনে নেতৃস্থানীয় হয়ে উঠবে লাতিন আমেরিকার বৃহৎ এ দেশ। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গ্লোবাল ডাটা জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্র থেকে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে ২৩ শতাংশ অবদান রাখতে সক্ষম হবে ব্রাজিল। এ সময় দেশটির বৈশ্বিক হিস্যা বেড়ে দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে।
সম্প্রতি ‘গ্লোবাল অফশোর আপস্ট্রিম ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২১-২০২৫’
শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ডাটা। এতে বলা হয়, ব্রাজিল যেসব প্রকল্পের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে, সেগুলোর অধীনে ২০২৫ সালে দৈনিক ১১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করা সম্ভব হবে। নতুন ঘোষিত প্রকল্পগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিচার-বিশ্লেষণ এবং তথ্য পর্যালোচনা শেষে এসব প্রকল্প উন্নয়নের জন্য অনুমোদন দেয়া হবে। এ প্রকল্পগুলোর অধীনে ২০২৫ সালে দৈনিক ১ লাখ ৬৯ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে সক্ষম হবে ব্রাজিল।
গ্লোবাল ডাটার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ব্রাজিলে মোট ২৯টি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্যে প্রধান প্রকল্পগুলো হলো বাকালহো, বুজিওস ভি (ফ্র্যাঙ্কো) এবং লুলা ওস্ট। ২০২৫ সালে ব্রাজিলের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেট উত্তোলনের ৪৪ শতাংশই আসবে এসব প্রকল্প থেকে।
গ্লোবাল ডাটার ঊর্ধ্বতন তেল ও গ্যাসবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইফাহ অ্যালেইন বলেন, বর্তমানে উত্তোলন প্রকল্পগুলোর অধীনে সৌদি আরব বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য তরল জ্বালানি তেল উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ব্রাজিল যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে চলতি দশকের মাঝামাঝিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেট উত্তোলনে শীর্ষে উঠে আসবে দেশটি।
ব্রাজিলের প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাস। কোম্পানিটি ব্রাজিলের সান্তোস বেসিন থেকে তেল উত্তোলন করে। নতুন প্রকল্পগুলোর অধীনে এই বেসিন থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলনে বড় ধরনের সম্ভাবনা দেখছে ব্রাজিল। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশটির অর্থনীতিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।
গ্লোবাল ডাটা জানায়, সমুদ্র থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলনে ২০২৩ সালের মধ্যে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে লাতিন আমেরিকা। এতে প্রধান ভূমিকা রাখবে ব্রাজিল।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সমুদ্র থেকে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেট উত্তোলনে দ্বিতীয় শীর্ষস্থান দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটি দৈনিক ৬ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেল উত্তেলন করতে সক্ষম হবে। বৈশ্বিক উত্তোলনে দেশটির হিস্যা বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়াবে। পরিকল্পিত ও ঘোষিত প্রকল্পের অধীনে নরওয়ে উত্তোলন করবে দৈনিক ৫ লাখ ৮ হাজার ব্যারেল। উত্তোলনের দিক থেকে শীর্ষ চতুর্থ স্থানে চীন ও পঞ্চম স্থানে উঠে আসবে নাইজেরিয়া।










