নতুন রুট ও দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক বিস্তারের ফলে সাম্প্রতিক দশকে ট্রেনে ভ্রমণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। রাত্রিকালীন কম খরচের ট্রেন থেকে শুরু করে বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজ সব বিভাগেই নতুন নতুন আকর্ষণ যুক্ত হচ্ছে প্রতি বছর। তবে একাধিক উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ মিলিয়ে ট্রেন ভ্রমণের জন্য বিশেষ এক বছর হতে চলেছে ২০২৬ সাল।

উচ্চগতির ট্রেন প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হচ্ছে ইউরোপে। জার্মানির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইতালির দুই কোম্পানি ট্রেনিতালিয়া ও ইতালো। ট্রেনিতালিয়ার ফ্রেচিয়ারোসা ট্রেন এরই মধ্যে স্পেন ও ফ্রান্সে পরিষেবা দিয়ে সফল। এবার ইতালি-অস্ট্রিয়া-জার্মানি আন্তর্জাতিক রুটে নামতে যাচ্ছে কোম্পানিটি। ইতালোও বার্লিন, মিউনিখ ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো শহরে উচ্চগতির সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এতে জার্মান রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বানের ওপর চাপ বাড়বে। তবে নতুন অপারেটরদের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা।

রাত্রিকালীন দীর্ঘ রুটের ট্রেনের চাহিদা বাড়লেও বাস্তবতা কঠিন। আর্থিক সহায়তা বন্ধ হওয়ায় প্যারিস-বার্লিন নাইটজেট বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রিয়ার ওবিবি। আগামী মার্চে প্যারিস-বার্লিন রুট পুনরায় চালু করবে ইউরোপিয়ান স্লিপার। জুনে আমস্টারডাম-ব্রাসেলস হয়ে সুইজারল্যান্ড ও মিলান পর্যন্ত নতুন নাইট রুট চালু করবে কোম্পানিটি। এটি অনেক বছর পর ইতালির সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের সরাসরি রাতের সংযোগ ফিরিয়ে আনবে।

বিলাসবহুল রেল ভ্রমণেও নতুন সংযোজন আসছে। কানাডার রকি মাউন্টেনিয়ার ২০২৬ সালে প্যাসেজ টু দ্য পিকস রুট চালু করবে। এতে পাহাড়, হিমবাহ ও ঐতিহাসিক রেলপথের দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। রিয়াদ থেকে জর্ডান সীমান্ত পর্যন্ত মরুভূমি ও পাহাড়ঘেরা বিলাসবহুল ট্রেন যাত্রা ড্রিম অব দ্য ডেজার্ট চালু করছে সৌদি আরব।

মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বুদাপেস্ট-বেলগ্রেড রেল সংযোগ ২০২৬ সালে পুনরায় চালু হতে পারে, যা ভিয়েনা পর্যন্ত দ্রুত ইউরোসিটি সংযোগ দেবে। প্রাগ ও কোপেনহেগেনের মধ্যে নতুন কমফোর্টজেট ট্রেন চালু হবে, এতে যাত্রার সময় ৩ ঘণ্টার বেশি কমবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইতিহাদ রেল চালু করবে। শুরুতে আবুধাবি ও দুবাই রুটে চালু হবে পরিষেবা, এরপর ধীরে ধীরে দেশজুড়ে বিস্তৃত হবে। জাপানের অতি বিলাসবহুল সেভেন স্টারস ইন কিউশু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানিয়ন স্পিরিট ট্রেনও অভিজাত ভ্রমণের নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল ট্রেন ভ্রমণের এক নতুন স্বর্ণযুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের একটি অংশের। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন বছরে ট্রেন ভ্রমণ হবে দ্রুত, আরামদায়ক ও অনন্য অভিজ্ঞতায় ভরপুর।

খবর ও ছবি সিএনএন