ইউরোপে মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বেকারত্ব বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় বেশি। এ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব ইউরোপকে ২০২৪ সালে অন্যান্য অঞ্চলের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রাখতে পারে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি চলতি বছর ২ দশমিক ২ শতাংশ হলেও ইউরোপের প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় শ্লথ হবে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি গ্লোবাল অ্যাকাউন্টিং ফার্মের একটি কেপিএমজি এ পূর্বাভাস দিয়েছে। খবর ইউরোনিউজ।
বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছর প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই)। এ খাত বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কেপিএমজির একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানিয়েছেন যে শীর্ষ বিনিয়োগের ক্ষেত্র হতে চলেছে এআই।৷তবে ৫৭ শতাংশ সিইও এখনো এআই প্রবিধান ও নৈতিক সমস্যা নিয়ে চিন্তিত। প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন কীভাবে এআই কোম্পানি এবং এর কর্মীদের সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল করে তুলতে পারে তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট উদ্বেগ। সম্ভাব্য বিনিয়োগের অন্যান্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে জলবায়ু, পরিবেশ, সামাজিক ও করপোরেট খাতে সুশাসন (ইএসজি) এবং মেধা। বেশির ভাগ সিইও কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উদ্ভাবন গুরুত্ব পেতে পারে।
কেপিএমজির ক্লায়েন্ট অ্যান্ড মার্কেটস বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান রেজিনা মেয়ার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বলেছেন, ‘ইউরোপে আমরা ক্রেতাদের অত্যুৎসাহী মনোভাব দেখতে পাচ্ছি না। এ অত্যুৎসাহ যুক্তরাষ্ট্রের মতো জায়গায় আপনি যা দেখছেন, তার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছে। সুতরাং ইউরোপে আমরা সামগ্রিকভাবে অনেক ধীর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছি।’
বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ২০২৪ সাল নিয়ে অপেক্ষাকৃত কম আশাবাদী অর্থনীতিবিদরা। কারণ এ বছর প্রায় ৭০টি দেশে নির্বাচন হবে। প্রায় অর্ধেক বিশ্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বছর পার করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের পর অনেক দেশে সরকারে পরিবর্তন আসতে পারে। এ পরিবর্তন ভালো হতে পারে। তবে সেটা যে ভালোই হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
রেজিনা মেয়ার জানিয়েছেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রমে বাড়ছে। এসব নেতিবাচক ঝুঁকি বছরজুড়েই থাকতে পারে। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকট জ্বালানি তেলের দাম খুব বেশি বাড়াতে পারবে না। জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ট্রিপল-ডিজিট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইদানীং জ্বালানি তেলের দামের ওপর ওপেক+ কৌশলগুলোর প্রভাবও কমে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের বহুজাতিক খুচরা পণ্য বিক্রেতা টেসকো জানিয়েছে, লোহিত সাগরে কার্গো জাহাজে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আর্থিক খাতের অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আরো মন্থর একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ। বিনিয়োগকারীরা নতুন বাজার বা আরো ঋণের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হবেন বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।










