উন্নয়নশীল দেশগুলোয় নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার প্রয়োজন। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

গ্লোবাল কনস্ট্রাকশন ভ্যালু চেইন হিসাব করে দেখিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রায় ৪০ শতাংশ এবং শিল্প-কারখানার কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমণ প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়বে।

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও শিল্পায়ন অনেক আগে পরিবেশ দূষণের নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ দূষণ কমাতে কাজ করছে আইএফসি। সংস্থাটির গবেষণায় দেখা গেছে, কার্বন নিঃসরণের দুই-তৃতীয়াংশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে আসে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নসংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের ওপর নির্ভর করে।

আইএফসির অর্থনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান লুন্ড বলেন, ‘বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা দিতে একটি ওয়ান-স্টপ শপ তৈরির কাজ করছি।’

ব্লুমবার্গকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‌জলবায়ু অর্থায়ন, বিশেষ করে সবুজ স্থাপনা এবং নির্মাণ খাতকে কার্বনশূন্য করার ক্ষেত্রে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে।’

লুন্ডের এ কথায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গের দেয়া একটি সাম্প্রতিক বক্তৃতার প্রতিফলন লক্ষ করা গেছে।

অজয় বঙ্গ বলেছিলেন, ‘‌বীমার নিশ্চয়তাকে আরো উন্নত করার কাজ করছে ব্যাংক।’

সুসান লুন্ড জানান, আইএফসি সাধারণত বাজার মূল্যে বাণিজ্যিক অর্থায়ন করে। সংস্থাটি নিশ্চয়তার জন্য অর্থ জমা করে এবং দাতাদের তহবিল বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। এসবের উদ্দেশ্য পরিকল্পিত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা।

সুসান লুন্ড বলেন, ‘‌যখন কার্বনশূন্য করার কথা আসে, তখন"জ্বালানি উৎপাদনে সতর্ক থাকতে হয়। আমরা ইস্পাত-সিমেন্টের উৎপাদন থেকে শুরু করে ভবনের নকশা করা এবং এসব কার্যক্রম চালানোর সময় কতটা জ্বালানি সাশ্রয় করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

আইএফসি কিছু কার্বনশূন্য প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছে, যা এরই মধ্যে নির্মাণ শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বিকল্প জ্বালানির কথা বলা যায়, যা বায়োমাস (অর্গানিক উপাদান) এবং পুনর্ব্যবহৃত টায়ার থেকে তৈরি।

ফরাসি সিমেন্ট প্রস্তুতকারক ভিকাট এসএর সহযোগী সেনেগালিজ একটি সংস্থা এ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমাবে।৷ আইএফসি প্রথম সবুজ ঋণ দিয়ে প্রকল্পটিকে সমর্থন জানিয়েছে।

সুসান লুন্ড বলেন, ‘‌প্রযুক্তি আছে। এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করাটাই এখন বড় একটা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অর্থায়ন, নীতিমালা ও তথ্য ছড়িয়ে দেয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

আইএফসির প্রতিবেদন অনুসারে, উন্নয়নশীল দেশের সরকার এ বিষয়ে পিছিয়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১১০টি দেশে বিল্ডিং এনার্জি কোড নেই। গত বছর প্রায় আড়াই বিলিয়ন বর্গমিটার ফ্লোর স্পেস কোনো জ্বালানি বিধিমালা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে, যা স্পেনের সব ভবনের সমান।

স্থাপনাগুলোকে কার্বনশূন্য করার ক্ষেত্রে অর্থায়ন হলো আরেকটি প্রশ্ন। সবুজ উপকরণ ব্যবহার করে স্থাপনাকে কার্বনশূন্য করার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত ঋণ অর্থায়ন ২০২১ সালে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছুঁয়েছে, যা উন্নয়শীল দেশের মোট বাজারের প্রায় ১০ শতাংশ মাত্র।