২০২৩ সালে চীনে রেকর্ড অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয়েছে। যদিও এ সময় উৎপাদন প্রবৃদ্ধির গতি ছিল কিছুটা ধীর। চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এনবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টাস।

এনবিএস জানায়, চীন বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক। গত বছর দেশটি ৪ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার টন প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে।

এনবিএসের বিশ্লেষণ বলছে, দেশটির যেসব অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয়, সেগুলোর কিছুতে গত বছর বিগলন কার্যক্রম ছিল শক্তিশালী। মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা উৎপাদন বাড়িয়ে দেন। এছাড়া উত্তর ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে নতুন কিছু প্রকল্প চালু হওয়ার কারণেও উৎপাদন গতি পায়।

তবে উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার ছিল অনেকটাই শ্লথ। সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ ছিল। কারণ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিগলন কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন কমে যাওয়া। ২০২৩ সালে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অ্যানটেইক জানায়, ২০২৩ সালে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন খুব ধীরগতিতেই বেড়েছে। কারণ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সরকারের বেঁধে দেয়া সীমার মধ্যেই ছিল। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকটকেও এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে চীন সরকার অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন সক্ষমতা ৪ কোটি ৫০ লাখ টন কমিয়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি সংবেদনশীল খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত করা। শিল্প খাতটি ২০২৩ সাল শেষে বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার টনে উন্নীত করেছে। 

ইউনান চীনের চতুর্থ শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক প্রদেশ। খরার কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানকার স্থানীয় সরকার কারখানাগুলোকে উৎপাদন কমানোর নির্দেশ দেয়। ফলে জাতীয় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনেও গতি ফিরে আসে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রপার্টি মার্কেটকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে চীন সরকার। ফলে ধাতব পণ্যের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। এতে কারখানাগুলোর মুনাফা মার্জিন বেড়েছে। এ বিষয়ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।

বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১০ লাখ টন বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪ কোটি ২৭ লাখ টনে। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প শুরু হতে পারে বলেও জানা গেছে।