চার দশকের ব্যবসায়িক ইতিহাসে প্রথমবার নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বেস্টসেলিং কলমের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জাপানের শীর্ষ কলম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পাইলট। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ফ্রিক্সিয়নের দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। ২০০৬ সালে বাজারে আসার পর কলমটি ২৩০ ইয়েনে বা ১ ডলার ৪৭ সেন্টের সমতুল্য অর্থে বিক্রি হচ্ছিল। খবর এফটি।
পাইলটের প্রধান নির্বাহী ফুমিও ফুজিসাকি জানিয়েছেন, কোম্পানিতে তার ৪০ বছরের কর্মজীবনে এবারই প্রথম কোনো বেস্টসেলার পণ্যের দাম বাড়াতে হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে দীর্ঘ সময় পণ্যমূল্যে স্থবিরতার পর জাপান কীভাবে আবার ফিরে আসা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। ১৯৮০ সালে প্রপার্টি বাজারে ধসের পর কয়েক দশক ধরে দেশটিতে প্রায় কোনো মূল্যবৃদ্ধিই দেখা যায়নি।
১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে পাইলটে যোগ দেন ফুজিসাকি। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হন। মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাপান দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতিহীন অবস্থার মধ্যে ছিল, তাই দাম বাড়ানো আমাদের জন্য খুবই কঠিন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের মানসিকতা বদলাতে হয়েছে।’
জ্বালানি ও তাজা খাদ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা জাপানের মূল্যস্ফীতি আগামী বছরও ২ শতাংশের ওপর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) অতিনিম্ন সুদনীতি থেকে সরে আসার সুযোগ পেয়েছে। চলতি মাসে সুদহার প্রায় দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে বিওজে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ।
বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় এখন ক্রমেই বাড়তি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে জাপানিদের। গত ৩০ বছরে প্রথমবার ডাক মাশুল ৩০ শতাংশ বাড়িয়েছে জাপান। তবে অনেক কোম্পানিই গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচ চাপাতে এতদিন অনীহা দেখিয়েছে।
পাইলটের শেয়ারহোল্ডাররা দীর্ঘদিন ধরেই দাম বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। এতদিন প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ছিল তাদের উচ্চমূল্যের ফাউন্টেন পেনের ক্ষেত্রে। যেগুলোর দাম কয়েক মিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত হয়ে থাকে, স্বর্ণের দাম বাড়ার সঙ্গে এগুলোর মূল্য সমন্বয় করা হয়।
গত বছর কোম্পানি পণ্যের আরো কিছু অংশে দাম বাড়ালেও ফ্রিক্সিয়ন কলম দুই দশক ধরে একই দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ জাপানে পাইলটের কলম বিক্রি থেকে পাওয়া মোট আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি আসে এ মডেল থেকে।
ফুজিসাকি স্বীকার করেন, এ মূল্যবৃদ্ধি ঝুঁকিপূর্ণ। এতে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যের জন্য জাপানের মধ্যবিত্তরা বেশি দাম দিতে কতটা রাজি আর প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাম অপরিবর্তিত রেখে বাজার দখল করবে কিনা।
তার মতে, গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া বুঝতে এখনো সময় লাগবে। তবে প্রতিযোগীরা যদি একই মান বজায় রেখে দাম না বাড়ায়, তাহলে পাইলটের জন্য সমস্যা হতে পারে।









