যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ অফিস ফাঁকা পড়ে আছে। প্রধান কয়েকটি শহরের ৬০০-এর বেশি এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এ অফিসগুলো উইওয়ার্কের অফিস স্পেস হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কোম্পানিটি বাস্তব ও ভার্চুয়াল দুভাবে অফিস স্পেস সরবরাহ করে থাকে। খবর সিএনএন।

সম্প্রতি নিউজার্সির একটি আদালতে অধ্যায় ১১-এর ভিত্তিতে দেউলিয়া হয়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আবেদন করেছে উইওয়ার্ক। অধ্যায় ১১ যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়াত্ব কোডের একটি বিধান। যার অধীনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এর ঋণ ও বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনা করার সুযোগ পায়। এটি সাধারণত দেউলিয়া হওয়ার পথে থাকা কোম্পানির জন্য পুনর্গঠনমূলক উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কয়েক বছরের মধ্যে উইওয়ার্ক করপোরেট খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০১৯ সালে সফটব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হওয়ার সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে।

উইওয়ার্কের এ দেউলিয়াত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ভবন মালিকদের অর্থনৈতিক চাপে ফেলেছে। রিয়াল এস্টেট ব্যবসার ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। শুধু তা-ই, এসব ভবনে যারা অফিস পরিচালনা করতেন, সেসব অফিসের কর্মীরাও বিপাকে পড়ছেন।

কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জমি ও ভবন মালিকরা উইওয়ার্কের মাধ্যমে তাদের ভাড়া পেয়েছে। যাকে অফিস স্পেসের ভবিষ্যৎ বলা হতো। ভাড়াটে পাওয়া নিয়ে চিন্তা না থাকায় অনেক জমি মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভবন করেছেন।

কমার্শিয়াল রিয়াল এস্টেট তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা ট্রেপ জানায়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলোর কাছে বাণিজ্যিক রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলার।

বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান জেএলএলের মতে, উইওয়ার্কের দেউলিয়াত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তাদের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি অফিস খালি হয়ে পড়েছে।

বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞরা জানান, উইওয়ার্কের বর্তমান অবস্থা কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবনের ভাড়া কমতে পারে। এতে আয় কমবে বাড়িওয়ালাদের। এরই মধ্যে এদের অনেকে উচ্চ সুদহারের ঋণ পরিশোধ করতে লড়াই করছেন। এমন বাজে পরিস্থিতিতে ঋণ বা মর্টগেজ নেয়া বাড়িওয়ালারা খেলাপি হয়ে যেতে পারেন, যা আরো বিস্তৃতভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া এ পুরো পরিস্থিতি নগরীর রাজস্বের ওপরও আঘাত হানতে পারে।

মুডি’সের অর্থনীতিবিদ এরমেনগার্দে জাবির সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানান, অফিস সম্পত্তিগুলো এরই মধ্যে অর্থায়নের অভাব ও নিম্নমানের মুখোমুখি হচ্ছে। এবার অপ্রত্যাশিত শূন্যপদের নতুন ঢেউয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে।

এ দেউলিয়াত্ব বাড়িওয়ালাদের ঋণদাতা ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যাংকগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বাড়ি ও ব্যবসা মালিকদের ঋণ দেয়া কমিয়ে দিতে পারে। ফলে আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে উদ্বেগ।

চলতি বছরের শুরুতে সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক ও সিগনেচার ব্যাংকের পতনের পর বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট খাত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রক্ষেপণ অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৫ শতাংশ অফিস ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে রয়েছে।

কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের রিয়েল এস্টেট অধ্যাপক স্টিজন ভ্যান নিউয়ারবার্গ বলেন, উইওয়ার্কের দেউলিয়াত্ব অফিস মার্কেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা।