অস্ট্রেলিয়ায় কয়লার (কোকিং কোল) দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। আগামী বছর নাগাদ দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়তে পারে, এমনটাই মনে করছেন সিটি রিসার্চের বাজার বিশ্লেষকরা। মূলত চীনের বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় চাহিদার তুলনায় জোগান অনেকটা সীমিত হয়ে আসার জের ধরে দেশটিতে কয়লার স্পটমূল্য চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবর হেলেনিকশিপিংনিউজ।
সিটি রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রতি টন কয়লার গড় স্পটমূল্য ২৬ ডলার ৫০ সেন্ট। এ দামে কয়লা বিক্রি করে দেশটির ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনেছেন বলে জানিয়েছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জোগান বছরজুড়ে অস্ট্রেলীয় কয়লার বাজারে মন্দা ভাব ধরে রেখেছিল।
তবে বছর ঘুরতেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে। এজন্য চীনের ক্রমবিকাশমান কয়লার বাজার গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। সিটি রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতের শুরু থেকেই চীনে কয়লার চাহিদা বাড়তির দিকে রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার বাজারেও।
একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় কয়লা উত্তোলন কমতির দিকে থাকায় জ্বালানি পণ্যটির জোগান আগের তুলনায় কমেছে। এসব কারণে ২০২০ সাল নাগাদ অস্ট্রেলিয়ায় কয়লার বাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তোলকরা এর মধ্যে যদি কয়লা উত্তোলন বাড়িয়ে দেন, তবে জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতিতে নতুন করে চ্যালেঞ্জের জন্ম দিতে পারে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশটির উত্তোলকদের আরো ৩ কোটি ২৪ লাখ টন বাড়তি কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ পরিকল্পনা দীর্ঘসময় ধরে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলীয় কয়লা শিল্পের জন্য নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সিটি রিসার্চের গবেষকরা। এ পরিস্থিতি দেশটির কয়লার বাজারকে আগের অবস্থায় সীমাবদ্ধ রাখতে পারে।









