আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের। গত বৃহস্পতিবার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার বেড়ে গেছে। মূলত তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক বাজারে চাঙ্গা ভাব ফিরিয়ে আনতে উত্তোলন আরো কমিয়ে আনতে পারে, এ আশঙ্কায় জ্বালানিপণ্যটির দাম বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বৃহস্পতিবার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার ৫৮ সেন্ট বেড়ে ৫৮ ডলার ৮১ সেন্টে বেচাকেনা হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার ৬১ সেন্ট বেড়ে ৫১ ডলার ৭০ সেন্টে বেচাকেনা হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

গত বুধবার উভয় ধরনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম চলতি বছরের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। পরের কার্যদিবসেই প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার বেড়ে যাওয়ায় আগের দিনের মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতির অর্ধেক পুষিয়ে নিতে পেরেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে টানা মন্দা ভাব বজায় থাকায় ওপেক উত্তোলন আরো কমিয়ে আনতে পারে, এমন আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে যায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তোলন কমিয়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে দামে চাঙ্গা ভাব ফেরানোর চেষ্টা করতে পারে বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত অন্যান্য দেশ।

সিঙ্গাপুরের এনার্জি অ্যাসপেক্টের জ্বালানি তেলবিষয়ক বিশ্লেষক বীরেন্দ্র চৌহান বলেন, উল্লেখযোগ্য সময়ব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে অবস্থান করতে থাকলে রফতানিকারক দেশগুলো উত্তোলন কমিয়ে আনবে। তারা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে চাঙ্গা ভাব ফেরাতে চেষ্টা করবে।

সৌদি আরবের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে গত বুধবার ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটি এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতনের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ওপেকভুক্ত অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

টরন্টোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অয়ান্ডার জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক আলফনসো এসপ্যারাজা বলেন, বাণিজ্যযুদ্ধের চলমান বক্তৃতাবাজির সামনে বাজার নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে। এর মধ্যে সৌদি আরবের অবস্থান তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদকদের অভূতপূর্ব উদ্যোগ নেয়ার পথে ঠেলে দিতে পারে। বাণিজ্যযুদ্ধ চলতে থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম পড়তির দিকেই থাকবে। ফলে ওপেক ও ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো উৎপাদন কমানোর বিষয়ে কীভাবে সম্মত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও তাদের এক টেবিলে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।

২০১৪ সালের শেষদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দরপতনের সূচনা হয়। দরপতনের একপর্যায়ে জ্বালানিপণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দৈনিক গড় উত্তোলন ১২ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তিটির মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হলেও সর্বশেষ ২০২০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

কিন্তু এর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরগতি ও চীন-মার্কিন বাণিজ্যবিরোধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। ফলে ওপেককে জ্বালানি তেলের বাজারে চাঙ্গা ভাব ফেরাতে ফের চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে।