গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম আবারো কমেছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দাম কমল। মূলত বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের বিপরীতে চাহিদা কমতে থাকায় বাজারদরে এমন নিম্নমুখিতা প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

তথ্য বলছে, নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাত নিলামের মধ্যে ছয়টিতেই দুগ্ধপণ্যের দাম কমেছে। গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম কমেছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এবার নিলামে দাম কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মাখন।

জিডিটির তথ্য বলছে, সর্বশেষ নিলামে মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে।

এবার নিলামে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৮১৫ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ৪৬১ টন। নিলামে অংশগ্রহণ করেন ১৪৭ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিজয়ী হয়েছেন ১১১ জন।

নিলামে সবচেয়ে বড় দরপতন দেখা যায় মাখনে। পণ্যটির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৮ ডলারে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটি সর্বনিম্ন দাম। গত মে মাসেও পণ্যটির লক্ষণীয় দর সংশোধন হয়। তবে জুনে দাম কিছুটা বেড়েছিল।

এদিকে গুঁড়ো দুধের দামও ছিল নিম্নমুখী। জিডিটি নিলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। খামারিরা পণ্যটি থেকেই সরাসরি মুনাফা লাভ করেন। চলতি মাসের প্রথম এ নিলামে পণ্যটির দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ৯৬১ ডলারে। নিলামে প্রভাবের দিক থেকে ডব্লিউএমপির পরই ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) অবস্থান। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৬৩ ডলার মূল্যে। অন্যদিকে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের মূল্যসূচকেও বড় পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৬৪ ডলারে। এক নিলামের ব্যবধানে পণ্যটির দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে এবারের নিলামে সুইট হুই গুঁড়ো দুধ উত্তোলন করা হয়নি।

সব পণ্যের মধ্যে একমাত্র চেডার পনিরের দাম বেড়েছে। পণ্যটি বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৪ হাজার ৯০৮ ডলার মূল্যে। এক নিলামের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

এদিকে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭০৬ ডলারে। ল্যাকটোজের জন্য কোনো দাম প্রস্তাব করা হয়নি এ নিলামে।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের তীব্র সংকট চলছে। ফলে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে আমদানিকারক দেশগুলো। এ কারণে চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চের প্রথম নিলাম পর্যন্ত অব্যাহতভাবে বেড়েছে দুগ্ধপণ্যের দাম। এটি মূল্যসূচককে রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তবে মার্চের দ্বিতীয় নিলাম থেকে দাম কমতে শুরু করে। মে মাসের সর্বশেষ নিলাম পর্যন্ত মূল্যসূচক অব্যাহত কমে। জুনের প্রথম নিলামে বাড়লেও পরের দুই নিলামে আবারো দাম কমে যায়।

চীনে কভিড-১৯ জনিত লকডাউনের প্রভাবে সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক নিলামগুলোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানান বিশ্লেষকরা।