চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিরোধের খবর বেশ পুরনো। চলতি বছর করোনা মহামারীর সময়ে সেটা রীতিমতো বাণিজ্য বিরোধে রূপ নিয়েছে। একের পর এক অস্ট্রেলীয় পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্ক আরোপ করছে বেইজিং। কয়লা, গম ও যবসহ বিভিন্ন অস্ট্রেলীয় পণ্য তাদের সবচেয়ে বড় বাজারে নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্কের কবলে পড়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ক্যানবেরা। খবর রয়টার্স।

বাণিজ্যমন্ত্রী সিমন বার্মিংহাম জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার যব আমদানিতে চীনের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা চেয়ে গতকাল ডব্লিউটিওতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হবে। এ আপিল নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত মে মাসে বেইজিং ক্যানবেরার যবের ওপর পাঁচ বছরের অ্যান্টি-ডাম্পিং ও অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্ক মিলিয়ে ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না। বেইজিংয়ের এ শুল্কের কারণে শতকোটি ডলারের বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে স্বতন্ত্র বাণিজ্য সংস্থার কাছে এ আবেদন দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে হচ্ছে। দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমবদ্ধ থাকার এ সময়ে এরই মধ্যে চীন অস্ট্রেলিয়ার অনেক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে।

চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের জের ধরে ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে হুয়াওয়ের যন্ত্রাংশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই থেকে বেইজিং-ক্যানবেরার সম্পর্ক শীতল হতে শুরু করে। যদিও একে অন্যের ওপর রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে অনেক আগে থেকেই দুই দেশের বিরোধ ছিল।

২০১৯ সালের শেষ ভাগে চীনের উহান থেকে পুরো পৃথিবীতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেয়ার দায় চীনকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো। এর মধ্যে চীনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। করোনা ছড়ানোর দায়ে দেশটি আন্তর্জাতিক আদালতে চীনের বিচারের দাবি তোলে। যদিও বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে চীন। তবে এর জের ধরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ে চীন।

এর পর থেকে চীন অস্ট্রেলিয়া থেকে মাংস আমদানি সীমিত করেছে, ওয়াইনের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে এবং তার মিলারদের অস্ট্রেলীয় তুলা কেনা বন্ধ করতে বলেছে।

ডব্লিউটিওতে অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, আমি কেবল চাপ দিতে চাই অস্ট্রেলিয়া সরকার চীনের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুক। চীনা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ সংশোধন করার জন্য দেশটির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

কেউ কেউ বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার চীনের সঙ্গে চুক্তি করা উচিত। ক্যানবেরার রক্ষণশীল সরকার কৃষকদের পক্ষ থেকেও ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে, যেখানে কৃষকরা চীনের মতো সবচেয়ে লাভজনক বাজার থেকে পাঁচ বছরের জন্য বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।