রাশিয়া থেকে স্বর্ণ আমদানি কমিয়েছে সুইজারল্যান্ড। গত মাসে দেশটি থেকে ২৮৪ কেজি স্বর্ণ আমদানি করা হয়, যার মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর আগের মাসে প্রায় ২০ কোটি ডলারের স্বর্ণ আমদানি করা হয়েছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে তিন টনেরও বেশি। সুইজারল্যান্ডের শুল্ক বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে রাশিয়া থেকে স্বর্ণ আমদানি অব্যাহত রাখায় অভিযোগ উঠেছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে রাশিয়াকে সহায়তা করছে সুইজারল্যান্ড। তবে দেশটির প্রধান পরিশোধন কেন্দ্রগুলো এ অভিযোগকে একেবারেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ স্বর্ণ উত্তোলক। আর সুইজারল্যান্ড বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ পরিশোধন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সুইচ সরকার জানায়, মে মাসে আমদানীকৃত স্বর্ণের উৎস রাশিয়া হলেও সেগুলো আমদানি করা হয়েছে ব্রিটেনের বন্দর দিয়ে। সরকার সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, আমদানির কারণে কোনোভাবে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। তথ্য বলছে, ব্রিটেন স্বর্ণ সংরক্ষণ ও বাণিজ্য কেন্দ্র। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর আগেই দেশটিতে কয়েকশ টন স্বর্ণ মজুদ করা ছিল।

তবে মে মাসে ঠিক কতদিন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ড স্বর্ণ আমদানি করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া এসব স্বর্ণ ব্রিটেন কিংবা অন্য কোনো পথে এসেছে কিনা তাও উদ্ঘাটন করতে পারেননি বিশ্লেষকরা। তাছাড়া যেসব কোম্পানি স্বর্ণ আমদানি করেছে তাদের নামও প্রকাশ করেনি সুইচ শুল্ক বিভাগ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও কানাডা গত মাসে রাশিয়া থেকে স্বর্ণ আমদানি বন্ধে একমত হয়। এছাড়া গত সপ্তাহে ইউরোপিয়ান কমিশনও রাশিয়া থেকে স্বর্ণ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেয়।

এরই মধ্যে লন্ডন বুুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন রাশিয়ায় তৈরি স্বর্ণ লন্ডনের বাজারে বেচাকেনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে ৭ মার্চের আগে যেসব স্বর্ণ এসেছে, সেগুলোর বাণিজ্য অব্যাহত রাখা যাবে বলেও জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।

সুইচ পরিশোধন কেন্দ্র আর্গর হেরায়ুসের সিইও রবিন কোলভেনব্যাচ বলেন, রাশিয়াকে যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে সহায়তার উদ্দেশে দেশটি থেকে স্বর্ণ আমদানির কোনো প্রশ্নই আসে না। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে আর্গর।

তবে তিনি বলেন, স্বর্ণ খাতে নিষেধাজ্ঞার নানা সীমাবদ্ধতা আছে। ধাতুটির বাণিজ্য পানির প্রবাহের মতো। একটি পথ বন্ধ করে দিলে অন্য একটি পথ খুঁজে নেয়। যদি কোনো অঞ্চল স্বর্ণ আমদানি বন্ধ করে দেয়, তবে অন্য অঞ্চল আমদানি শুরু করে। এমনকি এক্ষেত্রে আমদানি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ বিক্রেতারা এ সময় বাজার ধরে রাখতে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের সুবিধা দেয়।