জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর একটি হলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান বলছে, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা এতটাই বাড়বে যে উপকূলের অন্তত দুই লাখ ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ক্ষতির আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি পাউন্ড। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
এ বাড়িগুলো এমন অবস্থায় পড়বে যে সেগুলো আর বাঁচানো যাবে না। আবার প্রাচীর নির্মাণ বা উপকূল রক্ষার মাধ্যমে কোনোটি বাঁচানোর চেষ্টা করা সম্ভব হলেও তা হবে খুব ব্যয়বহুল। যেসব সমুদ্র উপকূল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে উত্তর সমারসেট, সেডগেমুর, উত্তর-পূর্ব লিংকনশায়ার ও সোয়াল।
গত সপ্তাহেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জানিয়েছিলেন দেশটির পরিবেশ বিষয়ক সংস্থার প্রধান জেমস বেভান। সে সময় তিনি বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বহু ঘরবাড়ি তলিয়ে যাবে। ফলে একটা বড় অংশের মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং তাদের নতুন কোথাও বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ঘরবাড়ি বা স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে তার আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি পাউন্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বন্যা যে হবেই, সেটিও অবশ্যম্ভাবী। ফলে উপকূলের স্থাপনাগুলোর ধ্বংস অনিবার্য। আর তা ২০৩০ সালের মধ্যেই দেখা যাবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ উপকূলে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৩৫ সেন্টিমিটারের বেশি। সমুদ্রতীর ও মূল ভূমির মধ্যকার ভূমি বিলীন হয়ে যাবে। ফলে আরো বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়বে, বিশেষ করে যখন ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে তখন।
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, উপকূলের জমিগুলোয় স্থাপিত দুই লাখের বেশি স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনের মূল লেখক পল সেয়ারর্স বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এটা অবশ্যম্ভাবী। ব্রিটেনের বহু শহর উপকূলে অবস্থিত। এগুলোকে বাঁচাতে যথাযথ নিরাপত্তা দেয়ার কাজ চলছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কিছু উপকূলীয় এলাকাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। ফলে এসব এলাকার মানুষকে কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে সরিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে কৌশলগত পর্যায় থেকে আলোচনা চলছে।
গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে জেমস বেভান বলেছিলেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তাতে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারাবেন। এখন তারা যেখানে আছেন, কয়েক বছর পর সেসব স্থান থাকবে পানির নিচে। তাই এ সময়ের মধ্যে কীভাবে তাদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যায় সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে সরকারের হিসাবে যে পরিমাণ স্থাপনা বিলীন হওয়ার বা ঝুঁকিতে থাকার তথ্য দেয়া হয়েছিল তা ছিল অনেক কম। ২০১৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কমিটি বলেছিল, যুক্তরাজ্যের উপকূলের এক-তৃতীয়াংশ ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের অধ্যাপক জিম হল বলেন, আমাদের এখন উপকূলের প্রতিটি বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলা উচিত। তাদের বোঝানো উচিত যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে তাতে তাদের প্রতিটি বাড়ি বা স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব নয়। আর এ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে খুব দ্রুত, সম্ভবত আমাদের ভাবনার চেয়েও বেশি দ্রুত। সে কারণে ভবিষ্যতের কথা ভেবে দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।










