ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে চীনাবাদামের। যার ফলে পণ্যটির বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ৩৭৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বীজ বপনের মৌসুম হওয়ায় দেশের কৃষক পর্যায়ে চীনাবাদামের চাহিদা বেড়েছে। এতে দেশের মোকামগুলো থেকে পর্যাপ্ত বাদাম না আসায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুম না থাকায় দুই মাস ধরে মোকাম থেকে পণ্যটির সরবরাহ কমছে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে নতুন মৌসুমের বাদামের বীজ বপন শুরু হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বাদামের দাম বাড়ছে।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার কয়েকটি আড়ত ও দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে মণপ্রতি খোসা ছাড়া চীনাবাদাম বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫৭ থেকে ৩ হাজার ৭৭৫ টাকা দামে। এক সপ্তাহ আগে বাজারে একই মানের বাদাম বিক্রি হতো ৩ হাজার ৩৫৮ থেকে ৩ হাজার ৪৩৩ টাকায়। বাজারদর অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ বাদামের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৭৫ টাকা।
খাতুনগঞ্জের চৌধুরী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বাদাম ব্যবসায়ী শাহেদ আকবর বণিক বার্তাকে বলেন, দু-তিন মাস ধরে পাইকারিতে বাদামের দাম ঊর্ধ্বমুখী। রমজানের পর বাজারে প্রতি কেজি চীনাবাদামের দাম ছিল মাত্র ৭৫-৮০ টাকার মধ্যে। কয়েক দফায় বেড়ে একই মানের বাদাম বর্তমানে ৯৮-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে বাজারে পণ্যটির দাম কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পাইকারি বাদাম ব্যবসায়ী মো. ইকবাল জানান, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া, নোয়াখালী, পঞ্চগড়সহ দেশের চরাঞ্চলগুলোয় বাদামের বীজ বপন শুরু হয়েছে। এতে মোকামগুলোয় বাদামের সরবরাহ অনেকটা বন্ধ রয়েছে। এমনকি মোকামের অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বাজার থেকে বীজের জন্য বাদাম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে বাদামের সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নতুন মৌসুমের বাদাম বাজারে না আসা পর্যন্ত আগামী দু-তিন মাস বাদামের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনিসহ অন্য বাদাম ব্যবসায়ীরা।
তবে আরেক ব্যবসায়ী রতন মল্লিক বলেন, রমজান ও কোরবানির ঈদে চীনাবাদামের প্রচুর চাহিদা থাকে। তাই গত দু-তিন মাসের বাড়তি চাহিদায় বাজারে বাদামের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে দফায় দফায় পণ্যটির দাম বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া, নোয়াখালী, পঞ্চগড়সহ দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে খাতুনগঞ্জের বাজারে আসে বাদাম। প্রতি বছর সারা দেশের ১০টি অঞ্চলে প্রায় ৮৫-৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে সর্বমোট প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন বাদাম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলে বাদামের চাষ হয় বেশি।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুম থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত দেশের চরাঞ্চল থেকে বাদাম বাজারে আসে। এ সময় বাদামের দাম অনেক কম থাকে। পরে মোকাম থেকে পণ্যটির সরবরাহ যতই কমে, দাম তত বাড়তে থাকে।
খাতুনগঞ্জের হক ট্রেডিংয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম জানান, ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বাজারে বাদামের দাম ছিল সর্বনিম্ন। তখন প্রতি কেজি বাদাম ৬০-৭০ টাকা দামেও বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জুন-জুলাই থেকে পণ্যটির দাম ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।









