যুক্তরাজ্যের এইচএস২ নামে পরিচিত মেগা রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ কিছুটা ধীর হবে। উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণের ব্যয় বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ ও ব্যস্ত স্থানগুলোয় ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, মধ্য যুক্তরাজ্যের একটি অংশে এ প্রকল্পের নির্মাণ কিছু সময় স্থগিত থাকবে। ব্রিটিশ পরিবহন সচিব মার্ক হারপার পার্লামেন্টে লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা উল্লেখযোগ্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি দেখছি।’
এইচএস২ নির্মাণেকাজ করছে কিয়ের গ্রুপ, বেলফোর বিটি ও ভিঞ্চি। ২০৩৫-৪০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা। ২০০৯ সালে প্রস্তাবিত এইচএস২-কে ইউরোপের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিল করা হয়েছিল। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের উচ্চগতির রেলযোগাযোগ বিস্তৃত করা। এটি বাস্তবায়ন হলে লন্ডন ইউস্টকে ম্যানচেস্টারের সঙ্গে যুক্ত করবে।
হার্পার জানান, বার্মিংহাম ও ক্রু শহরের মধ্যবর্তী অংশের নির্মাণ অগ্রগতি দুই বছরের মধ্যে শেষ করা হবে। তবে বার্মিংহামকে ম্যানচেস্টারের সঙ্গে যুক্ত করে পুরো উত্তর অংশের কাজ সমাপ্তের সময়সীমা জানাননি তিনি।
তিনি আরো জানান, এইচএস২-কে মধ্য লন্ডনের ইউস্টন স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ আপাতত প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে না।
হার্পার বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণকে অগ্রাধিকার রেখে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ঋণ কমাতে এ রকম কঠিন কিন্তু দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিচ্ছি।’
২০১৯ সালে এইচএস২-এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ২০০ থেকে ৯ হাজার ৮০০ কোটি পাউন্ড। কিন্তু তারপর থেকে মূল্যস্ফীতির কারণে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়েই চলছে।
যুক্তরাজ্যের বিরোধী লেবার পার্টির ট্রান্সপোর্ট পলিসি প্রধান লুইস হাই বলেছেন, ‘হাজার হাজার চাকরি ও কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। সরকারের ‘বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্তহীনতার’ কারণে কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি ও করদাতাদের ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়ছে।
এইচএস২-এর প্রথম অংশের (পশ্চিম লন্ডন থেকে বার্মিংহাম পর্যন্ত) নির্মাণ চলছে।










