আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ সময় ধরেই উত্তোলন কমাচ্ছে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো। সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তোলন কমানোর নীতি থেকে সরে আসার কথা ছিল জোটটির। তবে সম্প্রতি জোটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ বছরের শেষ নাগাদ উত্তোলন কমানোর সময়সীমা বাড়াতে পারে ওপেক প্লাস। এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। মূল্য সমন্বয় করতে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার এখন তাকিয়ে আছে ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তের দিকে। খবর রয়টার্স।

গতকালও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এদিন আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম মে মাসের সরবরাহ চুক্তিতে ব্যারেলপ্রতি ৩১ সেন্ট বা দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮২ ডলার ২২ সেন্ট। অন্যদিকে এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২৪ সেন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৮ ডলার ৫০ সেন্টে।

চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানোর পথে রয়েছে ডব্লিউটিআই। অন্যদিকে ব্রেন্ট গত সপ্তাহে লেনদেনকৃত মূল্যের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। সে হিসাবে টানা তিন সপ্তাহ ধরে ৮০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে ব্রেন্টের দাম।

রয়টার্সের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থাটি এ মাসে দৈনিক ২ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। এ সংখ্যা জানুয়ারির ৯০ হাজার থেকে বেশি। মাসওয়ারি হিসাবে লিবিয়ার দৈনিক উত্তোলন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত বেড়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মার্চের চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসের মাত্রা বাড়ানোর বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যেখানে প্রতিটি দেশ তাদের তেল উত্তোলনে নেয়া সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।

ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি খাতের প্রধান শুভ্র সরকার বলেন, ‘‌সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস প্রথম প্রান্তিকের বাইরেও ২০২৪ সালে শেষ পর্যন্ত সরবরাহ হ্রাস অব্যাহত রাখতে পারে। এমন সম্ভাবনা যদি সত্য হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের ওপরই থাকবে।’

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েতসহ মোট ১৩টি তেল রফতানিকারক দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছে ওপেক। তাদের মিত্র বা সহযোগী হিসেবে রয়েছে রাশিয়া, মালয়েশিয়া, বাহরাইনসহ আরো ১০টি দেশ। এদের একসঙ্গে ওপেক প্লাস বলা হয়।