সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তুলা আমদানি বেড়েছে। দেশের বস্ত্রকল ও সুতা উৎপাদনকারী মিল মালিকদের কাছে পণ্যটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি ৩৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার তুলা আমদানি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বস্ত্রকল ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দর দিয়ে এসব তুলা আমদানি করেন। বন্দরসংশ্লিষ্টরা আরো জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় পণ্যটির আমদানি অন্তত ৩৫ গুণ বেড়েছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তা আকবার আলী জানান, সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে তুলা আমদানি হয়েছে ৪২ হাজার ৩৭৭ টন। আমদানীকৃত এসব তুলার বাণিজ্যিক মূল্য ৭৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে তুলা আমদানি করা হয়েছিল ১ হাজার ১৮৩ টন, যার মূল্য ২০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির ব্যবস্থাপক পরিতোষ কুমার ঘোষ জানান, দেশের বিভিন্ন বস্ত্রকল ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তার এজেন্সির মাধ্যমে তুলা আমদানি করে। তবে তিন-চার অর্থবছরের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুলা আমদানি বেশি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভারত তুলা রফতানি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছিল। যে কারণে দেশীয় বস্ত্রকল ও সুতা উৎপাদন মিল মালিকরা ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে তুলা আমদানি করে চাহিদা মেটাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০-২১ অর্থবছর ভারত তুলা রফতানি বাড়ায়। ফলে দেশের বিভিন্ন বস্ত্রকল ও ব্যবসায়ীরা ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করে তুলা আমদানি করছেন।

ভোমরা বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে তুলা আমদানি বেশি হয়েছে। দেশের বস্ত্রকল ও সুতা উৎপাদনকারী মিল মালিকদের চাহিদা বেশি হওয়ায় কৃষিজাত পণ্যটির আমদানি বেড়েছে বলে জানান তিনি। সাতক্ষীরা সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের সদ্য বিদায়ী ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে তুলার চাহিদা ব্যাপক। দেশে যে পরিমাণ তুলা উৎপাদন করা হয় তা দিয়ে ২০ শতাংশ চাহিদাও মেটে না। ফলে সরকারি-বেসরকারি যেসব সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা বস্ত্রকল রয়েছে, তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তুলা আমদানি করে।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন তুলা আমদানি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বণিক বার্তাকে জানান, পণ্যটির আমদানি বাড়লেও এটি থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আসে না। এটি সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত একটি কৃষি আমদানি পণ্য।