২০২০ সালটা ভারতীয় মসলা রফতানিকারকদের কাছে চরম হতাশার একটি বছর। একদিকে মসলার অব্যাহত দরপতন, অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের হানা—এ দুইয়ের জের ধরে দেশটির ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা বছরজুড়ে ভালো ব্যবসা করতে পারেননি। গত এক বছরে ভারতের বাজারে প্রধান চারটি রফতানিযোগ্য মসলাপণ্য জিরা, ধনিয়া, হলুদ ও এলাচের দাম ৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫৬ শতাংশ কমে গেছে। রফতানিযোগ্য মসলার এমন দরপতন ভারতীয় রফতানিকারকদের হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর বিজনেস লাইন।

রফতানিকারকদের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য এলাচের দাম ৫৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে পণ্যটি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ রুপির (ভারতীয় মুদ্রা) ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতের বাজারে বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮০০ রুপির আশপাশে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানিযোগ্য মসলাপণ্যটির দাম কমেছে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

একই চিত্র দেখা গেছে জিরার দামেও। বর্তমানে ভারতের বাজারে প্রতি কুইন্টাল জিরা বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার ৪৮০ রুপির বেশিতে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানিযোগ্য এ মসলাপণ্যটির দাম কমেছে ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। হলুদের দাম বছরের ব্যবধানে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে এসেছে। বর্তমানে ভারতের বাজারে হলুদ বিক্রি হচ্ছে কুইন্টালপ্রতি ৫ হাজার ৬৫০ রুপির বেশিতে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মৌসুমে ভারতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া ছিল মসলা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। এতে জিরা, ধনিয়া, এলাচ ও হলুদ—চারটি মসলার উৎপাদন হয়েছে ভালোই। তবে ভারতীয় মসলার বেচাকেনা কমতির দিকে ছিল। করোনা মহামারী ও টানা লকডাউনে দেশটিতে রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। উৎসব আয়োজনে লাগাম টানা হয়েছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মসলা বেচাকেনা কমছিল। লকডাউনের সময় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শ্লথ হয়ে আসায় ভারতীয় মসলা রফতানি আগের তুলনায় কমে এসেছে। বাড়তির দিকে রয়েছে মজুদ। এ পরিস্থিতি ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য মসলার দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

ভারতের অন্যতম বৃহত্তম মসলা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান জেবস ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শৈলেশ শাহ বলেন, বাড়তি সরবরাহের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে আসায় ভারতের গুদামগুলো মজুদ করা মসলায় ফুলেফেঁপে উঠেছে। করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট আর্থসামাজিক অনিশ্চয়তা মসলা রফতানিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব কারণে রফতানিযোগ্য মসলার দাম ৮-৫৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যা ভারতীয় মসলা রফতানিকারকদের হতাশা দিন দিন বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি আরো বলেন, বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে রমরমা ব্যবসার সম্ভাবনা দেখেছিলেন ভারতীয় মসলা রফতানিকারকরা। তবে করোনা মহামারী সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। এখন রফতানিকারকরা যেকোনো মূল্যে মজুদ করা মসলা হাতবদল করতে চান। এ পরিস্থিতিতে রফতানি বাজার দ্রুত সম্প্রসারণ করা না গেলে ভারতে মসলাপণ্যের দাম দীর্ঘমেয়াদে কমতির দিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।