ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম—এশিয়ার চালের বাজার বলতে মূলত এ তিনটি দেশকে বিবেচনা করা হয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খাদ্যপণ্যটি রফতানিকারকদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে এ তিনটি দেশ। তিনটি দেশ সম্মিলিতভাবে বছরে ২ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি করে। স্বাভাবিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য নির্ধারণে এ তিন দেশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। গত এক মাসে ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বাজারে চালের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় ভারত ও থাইল্যান্ডে খাদ্যপণ্যটির দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে চালের দাম কমেছে ভিয়েতনামে। খবর আইজিসি।
লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিলের (আইজিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ নভেম্বর বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য চালের (২৫ শতাংশ ভাঙা) দাম ছিল টনপ্রতি ৩৩৭ ডলার। ১৬ নভেম্বর নাগাদ খাদ্যপণ্যটির দাম টনপ্রতি ৩২৯ ডলারে নেমে আসে। তবে মাস শেষ হওয়ার আগেই ফের ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য চালের দাম বাড়তে শুরু করে। ২৭ নভেম্বর খাদ্যপণ্যটির দাম দাঁড়ায় টনপ্রতি ৩৪০ ডলারে। আর ৪ ডিসেম্বর প্রতি টন চালের দাম আরো কিছুটা বেড়ে ৩৪২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য ২৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম টনে ৫ ডলার বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি হয়। করোনা মহামারীর মধ্যে রফতানি বাজারগুলোয় ভারতীয় চালের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। দেশটির বাজারে খাদ্যপণ্যটির মূল্যবৃদ্ধির এটা অন্যতম কারণ। আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশের বাজারে চাল রফতানি বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন ভারতের রফতানিকারকরা। এ সম্ভাবনা বাস্তব হলে ভারতের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে রফতানিযোগ্য চালের দাম বাড়তি থাকতে পারে।
অনেকটা একই চিত্র বজায় রয়েছে থাইল্যান্ডে। দেশটির বাজারে গত ৯ নভেম্বর প্রতি টন রফতানিযোগ্য চাল (১০০ শতাংশ গ্রেড বি) ৪৬৭ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এর পর থেকে খাদ্যপণ্যটির দাম ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। বাড়তে বাড়তে নভেম্বরের শেষ নাগাদ রফতানিযোগ্য থাই চালের দাম আরো বেড়ে টনপ্রতি ৪৯৫ ডলারে উন্নীত হয়। যদিও ৪ ডিসেম্বর দেশটির বাজারে প্রতি টন চালের দাম কিছুটা কমে ৪৯২ ডলারে অবস্থান করেছে। তবে খাদ্যপণ্যটির বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাও অন্যান্য সময়ের তুলনায় বাড়তি দাম। রফতানি চাহিদা বাড়তির দিকে থাকায় থাইল্যান্ডে চালের বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
ভারত ও থাইল্যান্ডে বাড়লেও বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনামে খাদ্যপণ্যটির দাম আগের তুলনায় কমে গেছে। গত ৯ নভেম্বর দেশটিতে প্রতি টন রফতানিযোগ্য (৫ শতাংশ ভাঙা) চালের দাম ছিল ৪৯৫ ডলার। ১৭-১৯ নভেম্বর তা বেড়ে টনপ্রতি ৫১২ ডলারে উন্নীত হয়। এর পর থেকে ভিয়েতনামিজ চালের দাম কমতির দিকে রয়েছে। দরপতনের ধারাবাহিকতায় ৪ ডিসেম্বর প্রতি টন চালের দাম ৪৮৯ ডলারে নেমে এসেছে।
করোনা মহামারীর ধাক্কায় চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে ভিয়েতনাম থেকে চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে এসেছে। রফতানি চাহিদায় এ মন্দা ভাব দেশটিতে চালের দরপতন ঘটিয়েছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা।










