ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি হওয়া মসলা পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জিরা। মসলা পণ্যটি রফতানি করে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি রুপি আয় করে দেশটি। কিন্তু চলতি মৌসুমে ভারতে জিরার আবাদ বিলম্ব হওয়ায় উৎপাদন কমার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ভারতে সবচেয়ে বেশি জিরা উৎপাদন হয় গুজরাট ও রাজস্থানে। সাধারণত এ অঞ্চলে দীপাবলির পরেই জিরার বপন শুরু করেন কৃষকরা। কিন্তু এবার টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জিরার বপনে বিলম্ব হয়েছে। এমনকি চলতি মাসেও পুরোদমে চলবে জিরা বপন। আবাদ বিলম্বের কারণে দেশটিতে এবার মসলা পণ্যটির উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
মুম্বাইভিত্তিক মসলা রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কানু কৃষ্ণ করপোরেশনের অন্যতম অংশীদার দীপক পারিখ জানান, জিরা আবাদের জন্য কম আর্দ্রতার প্রয়োজন। কিন্তু কৃষকরা এবার টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ঠিক সময় জিরার বপন করতে পারেননি। ফলে এ মৌসুমে জিরার ফলন কমতে পারে। পাশাপাশি জিরার বপন আরো বিলম্ব হলে কম পানির প্রয়োজন হওয়া গম ও ছোলার মতো ফসল আবাদও ব্যাহত হতে পারে।
দীপক পারিখের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারতে প্রায় ছয় লাখ টন জিরা উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু এ বছর ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় মসলা পণ্যটির বাম্পার ফলন আশা করছিলেন চাষীরা। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাতে আবাদ বিলম্ব হওয়ায় সেটি ব্যাহত হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া এবার জিরা সংগ্রহ করতেও প্রায় এক মাস দেরি হবে। সে হিসাবে আগামী মার্চ নাগাদ ফসল সংগ্রহ করতে পারবেন কৃষকরা।
এদিকে চলতি বছরের আগস্ট থেকে অন্যান্য পণ্যের মতো জিরা রফতানিতেও সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্রত্যাহার করায় রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রফতানিকারকরা।
গত আগস্ট পর্যন্ত মসলা পণ্যটির রফতানিতে মার্চেনডাইজ এক্সপোর্ট ফ্রম ইন্ডিয়া স্কিমের (এমইআইএস) আওতায় ৭ শতাংশ প্রণোদনা পেতেন রফতানিকারকরা। এর ওপর নির্ভর করেই মসলা পণ্যটির রফতানিমূল্য নির্ধারণ করেন তারা। কিন্তু সরকার এটি প্রত্যাহার করে নেয়ায় জিরা রফতানি থেকে তাদের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ এরই মধ্যে নির্ধারিত মূল্যে রফতানি চুক্তি হওয়ায় আগের দামেই পণ্যটির সরবরাহ করতে হবে তাদের।









