বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা টেসলার ভাবমূর্তি উদ্ধারে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার রস গারবার। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি বলেছিলেন যে ইলোন মাস্কের নামে পরিচিত না হয়ে টেসলার নিজের পরিচিতি বাড়ানো প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির স্বত্বাধিকারী এ ধনকুবেরের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত হচ্ছিলেন অন্য শেয়ারহোল্ডাররা। মূলত সে জায়গাতেই পরিবর্তন আনতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিলেন গারবার। এজন্য টেসলা ইনকরপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সে অবস্থান থেকে এখন সরে এসেছেন এ ব্যবসায়ী। কারণ হিসেবে বলছেন, তার প্রস্তাবিত পথেই হাঁটতে শুরু করেছে টেসলা। তাই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য নির্বাচনের দৌড় থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিতে চান তিনি। খবর রয়টার্স।
গত শুক্রবার একটি সাক্ষাৎকারে গারবার বলেন, তিনি টেসলার জন্য যেসব প্রস্তাব দিয়েছিলেন, এরই মধ্যে সেগুলো বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে শুরু করেছে টেসলা। কোম্পানির ইনভেস্টর রিলেশন বিভাগের প্রধান মার্টিন ভিয়েচা তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আর যেহেতু তার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হচ্ছে, তাই তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
উল্লেখ্য, লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক দীর্ঘদিন ধরে টেসলায় বিনিয়োগ করছেন। তার সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কাছে টেসলার প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার ছিল। এছাড়া অনলাইনে বড় শেয়ারহোল্ডারদেরও সমর্থন ছিল তার প্রতি।
টেসলা নতুন যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে নতুন নির্বাহীদের পরিচিত করা। আগামী ১ মার্চ টেক্সাসের সদর দপ্তরে নতুন নির্বাহীদের পরিচিত করা হবে। গারবার জানান, এটিও তার প্রস্তাবে ছিল। এর মাধ্যমে ইলোন মাস্কের বাইরেও টেসলার প্রশাসনিক কাজে কত মেধাবী কাজ করছেন, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। এছাড়া সামনের দিনগুলোয় টেসলা আরো বেশি টুইটার ও প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরি করবে। যা মাস্কের পরিচয় ছাপিয়ে ব্র্যান্ডটিকে নিজস্ব পরিচিতি দিতে সহায়তা করবে। গারবারও এমন প্রস্তাব রেখেছিলেন যেন প্রত্যেকের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়, একটির আড়ালে অন্যটি হারিয়ে না যায়।
গত শুক্রবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে টেসলার শেয়ারদর ছিল ২০২১ সালের সর্বোচ্চ দামের অর্ধেক। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার নিয়ে ইলোন মাস্কের নানা কর্মকাণ্ডের প্রভাব টেসলার শেয়ারের ওপর পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। যে কারণে এক ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে পারে কোম্পানিটি।
গারবার জানিয়েছেন, টেসলা কর্তৃপক্ষ তাকে সরে দাঁড়াতে বলেনি। তিনি বলেন, ‘তারা (টেসলা) আমার সঙ্গে লড়তে চায় না এবং আমিও তাদের সঙ্গে লড়াই করতে চাই না। আমার মনে হয়েছে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে সরে যাওয়াই ভালো।’ "
তবে এ বিষয়ে টেসলার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










